রায়ে দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে

জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার ইত্তেফাককে বলেন, এ রায়ে সকলেই আনন্দিত। সাঈদী তার অপরাধের জন্য সঠিক ও সর্বোচ্চ সাজা পেয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চেয়েছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সর্বোচ্চ সাজা হোক। এ রায়ের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহ-সভাপতি জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ বলেন, এ রায়ই আমরা প্রত্যাশা করেছি। রায়ে স্বস্তি পাচ্ছি। দেশের মানুষ এ রায়ে খুশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যে আনন্দ অনুভব করেছিলাম, আজ এ রায়ে তার চেয়েও বেশি আনন্দ অনুভব করছি। নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জাগরণ সৃষ্টি করেছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের সঙ্গে জনতার যে রায় তা মিলে গেছে। রায়ের মধ্য দিয়ে দেশ কলঙ্কমুক্ত হলো। প্রমাণিত হলো এ দেশ বর্বর নয়। তিনি বলেন, এ মামলার বিচার শুরু হওয়ার পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেকেই সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে আসেননি। এ রায়ের পর এখন সবাই আরও সাহসী হবে এবং ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাই নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, তরুণ প্রজন্ম গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে উজ্জীবিত করেছে, কাঙ্খিত রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, এ রায় ঐতিহাসিক। ৩০ লাখ শহীদের পরিবার ৪১ বছর ধরে এ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। তিনি বলেন, শুধু এ রায়ই নয় রায় বাস্তবায়ন ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে রয়েছে। তিনি বলেন, এ রায়ে গোটা জাতি আনন্দিত। রায়ে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। শাহরিয়ার কবির বলেন, সরকার ও দেশের জনগণ চাইলে যে গণহত্যার বিচার করা সম্ভব সেটা এ রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিলো, আজকের এ রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে আবার ন্যায় বিচারের সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। আমরা চাইব, এই সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন থাকবে, যাতে আর কোনোদিন কোনো মানুষ বিচারবঞ্চিত না হয়। তিনি বলেন, দুটি অভিযোগে সাঈদীকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এতে আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, আমি সব সময় বলেছি-যা অপরাধ হয়েছে তা সত্য। ইতিহাস এ সত্যের প্রমাণ বহন করে। এ রায়ের মাধ্যমে ঐতিহাসিক সত্যের প্রতিফলন ঘটেছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমাণ্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোরশেদ খান (বীর বিক্রম) বলেন, গণজাগরণের মাধ্যমে জনগণের জেগে ওঠা বিবেকের প্রতি বিচারকেরা এ রায় দিয়ে সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় বার বার মনে হচ্ছিল, আমি একাত্তরে ফিরে গেছি। আশা করছি ভবিষ্যতে যে রায়গুলো হবে, সেগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটানো হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যেসব পরিবারের সদস্য শহীদ হয়েছেন, যেসব নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য এ রায় কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। শাহবাগের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে নবযাত্রা শুরু হয়েছে, তা ত্বরান্বিত হবে। শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, কাদের মোল্লার রায় শুনে যে জ্বালা যন্ত্রণা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, এ রায়ে তা অনেকখানি প্রশমিত হয়েছে। রায়ে আমি সন্তুষ্ট। রায়ের জন্য ট্রাইব্যুনালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা, মুখপাত্র এবং ব্লগার এন্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। সাঈদীসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে। আমরা আশা করছি, সকল যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধেই আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দিবে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালকে আমরা কোনো চাপ প্রয়োগ করিনি। রাজপথে থেকে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেছি। ট্রাইব্যুনাল নিরপেক্ষভাবেই ফাঁসির রায় দিয়েছে। দেশকে কলংকমুক্ত করার পথে এ রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। ইমরান সরকার বলেন, জামায়াত-শিবিরের আস্ফাালনে জনতা ভয় পায় না। তাদের হরতাল ইতিমধ্যেই জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড একটি ‘গুরু অপরাধে লঘু দণ্ড’ ছিল। শুরুতে এর প্রতিবাদে মাঠে নেমেছিলাম কয়েকজন। এখন সারা বাংলাদেশ মাঠে নেমেছে। যুদ্ধাপরাধীরা নিশ্চিহ্ন হবেই। জনতার বিজয় আসবেই।