এ ঘটনা ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড :ফখরুল
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৮
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালের (বৃহস্পতিবার) ঘটনাকে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পুলিশ, র্যাব ও ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ তাণ্ডব এবং গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ায় গোটা জাতি আতংকিত। বিবৃতিতে এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী ও ঘাতক চরিত্র উল্লেখ করে নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভিন্নমত সহ্য করা গণতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য হলেও আওয়ামী সরকারের ঐতিহ্যই হচ্ছে বিরোধী দল শূন্য রাজনৈতিক পদ্ধতি গড়ে তোলা। তাদের হাতে বহু মত ও পথের গণতন্ত্রের সবসময় মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সরকারের নির্দেশে পুলিশ, র্যাব ও যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, রংপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি করে সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে।
মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে হত্যা ও রক্তারক্তির পথ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে সরকারকে ফ্যাসিবাদের মর্মান্তিক পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বিবৃতিতে সারা দেশে সরকারি বাহিনী কর্তৃক সাধারণ মানুষ হত্যার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়।
খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই
বৈঠক করলেন
দলের নেতাদের সঙ্গে
এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিত্সা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি চলে যান গুলশান কার্যালয়ে। সেখানে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তিনি দীর্ঘ বৈঠক করেন।
বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কয়েক সিনিয়র নেতা দলের চেয়ারপারসনের কাছে দেশের গত কয়েকদিনের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। বিশেষ করে গতকাল জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং এই রায়কে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা তুলে ধরা হয় তার কাছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ইত্তেফাককে জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেন। সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য তিনি দলীয় নেতাদের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে সারাদেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও করণীয় নির্ধারণে দুই-একদিনের মধ্যেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হবে বলে জানা গেছে।