বি শ্ব অ র্থ নী তি র টু কি টা কি
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫৫
হারুহিকো কুরুদো জাপানের কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের গভর্নর মনোনীত
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসাবে হারুহিকো কুরুদোকে মনোনীত করেছে দেশটির সরকার। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট (এডিবি) ব্যাংকের বর্তমান প্রধান কুরুদো জাপানের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারে অর্থনীতি শিথিলীকীকরণের পক্ষে কট্টর হিসাবে পরিচিত। জাপানের নয়া সরকার দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গতি আনতে ব্যাংক অব জাপানের পক্ষ থেকে আরো শক্তিশালী উদ্যোগ আশা করছে। জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ এই মনোনয়নের অনুমোদন দিতে ভোটাভুটি করবে। কিকুও আইওয়াটা ও ব্যাংক অব জাপানের কর্মকর্তা হিরোশি নাকাসো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি মনোনীতরা পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে টিকে যান তাহলে সরকার ও নিয়োগপ্রাপ্তরা জাপানের অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণে একত্রে কাজ করতে পারবে।
মুনাফায় ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো
২০০৭-০৯ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দের পর ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। সম্প্রতি ফেডারেল ডেপোজিট ইন্সুরেন্স করপোরেশনের (এফডিআইসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এফডিআইসি জানায়, ২০১১ সালে এ খাতের মুনাফা ছিল ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু সংস্থাটির প্রধান মার্টিন গ্রুয়েনবাগ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ বছর মুনাফার প্রবৃদ্ধি সম্ভবত মন্থর হতে পারে। কংগ্রেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যয় হ্রাসে একটি ফেডারেল বাজেট সমঝাতায় পৌঁছতে না পারে তাহলে ব্যাংকের মুনাফা আবার কমতে পারে। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাত ১৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করে। ২০১২ সালে মুনাফার প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগই এসেছে ঋণের ক্ষতির পরিমাণ সমন্বয় করতে ব্যাংকের বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার জন্য। এ ছাড়া ঋণ প্রদান করে এবং বিভিন্ন সেবা বিক্রয় করেও আগের চেয়ে বেশি অর্থ আয় করেছে ব্যাংকিং খাত।
এফডিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, যদি এখনও মুনাফার প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ আছে। তবে আমার মনে হয় না এ বছর এতো মুনাফা হবে। এফডিআইসির এ প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সম্ভবত আমেরিকা তার মহামন্দার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছে। যদিও এসময় অনেকগুলো ব্যাংক কর্মী কাটছাঁট করে তাদের ব্যবসার পরিধি কমিয়ে এনেছে। তবে ব্যাংকের ব্যবসা আবার খারাপ হতে পারে যদি না কংগ্রেস পদক্ষেপ নেয় সরকারি খাতে ৮৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট কাটছাঁটের বিষয়টির ব্যাপারে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট কমানো হলে এর প্রভাব পড়বে ব্যবসায়ী ও কন্ট্রাক্টরদের উপর। আর তারাও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যয় সংকোচন করবে এবং এর প্রভাব পড়বে ব্যাংকিং খাতে।
‘পবিত্র ভূমি’ বিক্রি করে
দিয়েছে সনি!
জাপানের অন্যতম বৃহত্ ইলেকট্রনিক্স নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সনি তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টোকিও ভবন ১১১ বিলিয়ন ইয়েন দরে বিক্রি করে দিয়েছে। ২৫ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির টোকিও সদর দপ্তর। এক সময়ে ভবনটিকে প্রতিষ্ঠানটির ‘পবিত্র ভূমি’ বলা হতো। ২০১১ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এখানে প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার কর্মী কাজ করছে এবং এখানেই জাপানের জনপ্রিয় টেলিভিশন ট্রিনিট্রনের অফিস। সামপ্রতিক সময়ে সনি যুক্তরাষ্ট্রের সদর দপ্তরও বিক্রি করে দিয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে সনি আর্থিক দুগর্তির মধ্যে যাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনগুলো বিক্রি করে তহবিল গঠন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০০৮ সালে বিশ্ব মন্দার কারণে জাপানের প্যানাসনিক, শার্পও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জেপি মর্গান ১৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যাংক জেপি মর্গান চেস ঘোষণা দিয়েছে আগামী বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির ১৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হবে। ব্যাংকটির ভোক্তা ও কমিউনিটি ব্যাংকিং শাখা হতে তিন থেকে চার হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হবে। আর বন্ধক ব্যাংকিং ইউনিট থেকে ১৩ থেকে ১৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকটির মুখপাত্র জানায়, ব্যয় সংকোচে এ বছর চার হাজার কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বছরের শেষ দিক পর্যন্ত ব্যাংকটির কর্মী ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার। আর ব্যাংকটির শাখা রয়েছে ৫৬১৪টি। ব্যাংকটি এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০১২ সালে ব্যাংকের কনজ্যুমার এন্ড কমিউনিটি ব্যাংকিং খাতে ব্যয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, আর বন্ধক ব্যাংকিং খাতে ব্যয় হয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। সামপ্রতিক সময়ে বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক তাদের কর্মী ছাঁটাই করে ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ব্যাংকের কনজ্যুমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রায়ান ম্যাকইনারনি বলেন, বছরে একশ’টি শাখা বৃদ্ধি ও ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতি শাখা থেকে ২০ শতাংশ কর্মী কমিয়ে আনা হবে। —পলাশ সরকার