সিরিয়ার বিরোধী জোটকে অস্ত্র
দিবে না পশ্চিমা বিশ্ব
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৩, ২০:২৮
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের জন্য লড়াইরত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সরাসরি সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিলেও অস্ত্র সাহায্য দেবে না বলে নিশ্চিত করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এতে হতাশ হয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহী পক্ষগুলো।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রোমে সিরিয়ার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীর সমর্থনে সরাসরি খাদ্য এবং চিকিত্সা সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ারবিরোধী পক্ষগুলোকে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মানবিক সাহায্য দিলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অস্ত্র দেয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে চলে গেলে সেগুলো পশ্চিমা স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহূত হতে পারে এই যুক্তিতে অস্ত্র দেয়ার বিরোধিতা করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এখন থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র ছাড়া সরাসরি সব ধরনের সাহায্য দেবে তারা। পাশাপাশি সিরিয়ার বেসামরিক বিরোধী দলগুলোর জন্য সাহায্য দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে। সিরিয়ার জনগণের মধ্যে বিদ্রোহীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলাই এ সাহায্যের উদ্দেশ্য। এই সাহায্যের মধ্যে চিকিত্সা উপকরণ সরবরাহ, বিদ্রোহীদের যোদ্ধাদের জন্য খাদ্য এবং বিরোধীপক্ষগুলোকে নিরাপত্তা, শিক্ষা ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য ছয় কোটি ডলার দেয়া হবে।
রোমে ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’ গোষ্ঠীর বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নতুন এসব পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’ গোষ্ঠী ১১ দেশের অধিকাংশই ইউরোপীয় ও আরব জাতিভুক্ত। কেরি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো চিকিত্সা সামগ্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জন্য দেয়া রেশন যা ‘তৈরি খাদ্য’ হিসেবে পরিচিত বিদ্রোহীদের সরবরাহ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, সতর্কভাবে বাছাই করা যোদ্ধারাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পাবে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সহনশীলতা বিরোধী ‘চরমপন্থি’ শক্তিগুলো সিরিয়ার যে অবস্থান তৈরি করছে তা যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সাহায্য সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিদ্রোহীদের হাতকে শক্তিশালী করবে এবং তারা প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন কেরি। কিন্তু লড়াই জয়ের জন্য সিরীয় বিদ্রোহীদের দাবি অনুযায়ী তাদেরকে অস্ত্র পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি বিদ্রোহীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি করেছে। প্রায় দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধ শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিরোধিতা ক্রমে বিদ্রোহের রূপ নিয়ে গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।