ইউরোপে যাচ্ছেন মনিকা, মারিয়ারা

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক (অনূর্ধ্ব-১৯) গোল্ডকাপ ফুটবলে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলকে আরো উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ইউরোপে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাফুফে। ইংল্যান্ড অথবা ইউরোপীয়ন ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে মারিয়া, মনিকা, তহুরা, মারজিয়াদের পাঠানোর কথা বলেছেন বাফুফের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন। আগামী সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইয়ের খেলা। এশিয়ার ৪৭ দেশের মধ্যে ৮ দেশ চূড়ান্ত বাছাইয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে গত সেপ্টেম্বরে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত বাছাইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এই দলটা এবং বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে লাওসের সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠে নামার আগেই ফাইনাল বাতিল করে লাওস এবং বাংলাদেশকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের এই মেয়েরা সেপ্টেম্বরে এশিয়ার সেরা আট দেশের বিপক্ষে লড়াই করবে। সেখানে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো শক্তিশালী দেশ অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ যেন শক্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে তার জন্য বাফুফে বাংলার মেয়েদেরকে ইউরোপে প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ, বাফুফের স্ট্র্যাট্যাজিক ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পল থমাস স্মলি বৈঠক করেছেন। কিভাবে ইউরোপে রেখে ফুটবলারদের খেলার মান বাড়ানো যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। ইংল্যান্ডে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের কোনো ক্লাবে রেখে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর্সেনাল, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে কথা বলছি। অর্থ সংস্থানের চেষ্টা করছি। দুই তিন মাসের জন্য অনুশীলন করতে ইংল্যান্ডে যেতে পারে।’ সালাহউদ্দিন বললেন, ‘আমি বলছি না যে, ইউরোপে অনুশীলন করলে কোয়ালিফাই করে ফেলবে। আমার কাছে মনে হয় অন্যান্য দল বাংলাদেশকে সমীহ করবে। যেখানে জাপান, দুই কোরিয়াসহ ভালো ভালো দেশ খেলবে, সেখানে আমাদের মেয়েরা যেন ভালো খেলতে পারে সেটাই লক্ষ্য। সবকিছু নির্ভর করছে অর্থের উপর।’

দেশের ফুটবল দর্শকের কাছে মেয়েদের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স ছিল আলোচনায়। অপেক্ষা ছিল উপভোগ্য ফাইনাল হবে। ফাইনাল ম্যাচ না হওয়া প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, ‘ফাইনাল নিয়ে আমার চেয়ে বেশি উদগ্রীব কেউ ছিল না। কয়দিন আগে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম ফাইনালে আপনি আসবেন, বাংলাদেশ যদি হেরে যায়, এটা দুঃখজনক হবে। উনি আমাকে বলেছেন, তাতে কি, খেলায় তো হার-জিত আছেই।’ বাফুফে সভাপতি বললেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত, ফাইনালটা করতে পারলাম না। কিন্তু কিছু করার নেই। ফাইনাল নিয়ে আমার চেয়ে বেশি উদগ্রীব কেউ ছিল না। গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঘূর্ণিঝড়।

আমার দেশের লাখ লাখ মানুষ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে, বাঁচার আকুতি করছে। আমরা রাজধানীর বুকে উত্সব করি কিভাবে? সালাহউদ্দিনের শেষ কথা হচ্ছে খেলা শুরু হওয়ার পর বজ্রপাত হলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তখন কি হতো ? তিনি বললেন, ‘সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠত, সবাই প্রশ্ন তুলত বিপদ সংকেত থাকার পরও কেন খেলাটা মাঠে গড়ালেন। ফাইনাল না হওয়া আমার সিদ্ধান্ত না, জাতীয় বিষয়।’