কুমিল্লা কারা হাসপাতাল পরিত্যক্ত ঘোষণার ৩০ বছরেও সংস্কার হয়নি

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতাল ও প্রশাসনিক ভবনটি দীর্ঘ বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। ওই দু’টি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও অপসারণ বা সংস্কারের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অফিস কাম জেলারের বাসভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, কুমিল্লা জেলা কারাগারের যাত্রা শুরু হয় ১৭৯২ সালে। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে কুমিল্লা কারাগারকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। এ কারাগারের বন্দীদের চিকিত্সার জন্য ১৮৭১ সালে কারা অভ্যন্তরে দ্বিতল হাসপাতাল ভবন ও কর্মকর্তাদের জন্য দ্বিতল অফিস কাম জেলারের বাসভবন নির্মাণ করা হয়। শতাধিক বছরের প্রাচীন এসব ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮২ সালের ২৬ আগস্ট গণপূর্ত বিভাগ কারাগারের ৩টি ভবনকে ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করে। এর আগে ১৮৬৫ সালে সহকারী সার্জনের বাসভবন নির্মাণ করা হয়, এটিও ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করা হয় ১৯৮৮ সালের ২৬ আগস্ট। এরপর থেকে ঝুঁকি নিয়েই অফিস কাম জেলারের বাসভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এগুলো অপসারণের জন্য কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগ ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি সার্ভে প্রতিবেদন তৈরি করে। এর আলোকে একই বছরের ২৩ অক্টোবর কারাগারের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। এতে মন্ত্রণালয়ের কারা-১ অধিশাখার উপ-সচিব সালমা বেগমের স্বাক্ষরে ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর জরুরি ভিত্তিতে কারাগারের প্রশাসনিক ভবন ও জেলারের বাসভবন নির্মাণ-সংস্কার, পেরিমিটার প্রাচীরের উচ্চতা বৃদ্ধি, অফিসার্স ও কর্মচারী কোয়ার্টার্স নির্মাণ-সংস্কার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পরিত্যক্ত ভবন দ্রুত অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা-মহাপরিদর্শককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কারাগারের সংস্কারের জন্য সহকারী কারা-মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশনা প্রদান করেন। কারাগার সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্তুতপূর্বক কারাগারে প্রেরণের জন্য কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট গত জানুয়ারি মাসে একাধিকবার লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত কিছুই হয়নি।