নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সংযোগ সড়ক
১৮ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৭
বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত জনপদ ঘুমধুম ইউনিয়ন । এই ইউনিয়নের জনসাধারণ যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। পুরো ইউনিয়নবাসী স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও এখনও বিদ্যুত্ নামের সোনার হরিণের দেখা পায়নি । এই ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা যাতায়াত । নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নিমাণ প্রকল্পটি দীর্ঘ ১৮ বছরেও আলোর মুখ দেখিনি । এই সংযোগ সড়কটি নির্মিত না হওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক জনসাধারণ যোগাযোগ ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জানা যায়, পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সর্বদক্ষিণে মিয়ানমার সীমান্তের গাঁ ঘেঁষে অবস্থিত পাহাড়ী ও বনজ সম্পদ সমৃদ্ধ এক প্রত্যন্ত জনপদ ঘুমধুম ইউনিয়ন । ঘুমধুম হতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার । কিন্তু বর্তমানে যোগাযোগ ক্ষেত্রে ঘুমধুম ইউনিয়নবাসীকে উপজেলা সদরে যেতে হলে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও রামু উপজেলা হয়ে ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হয় । ঘুমধুম হতে নাইক্ষ্যংছড়ির সরাসরি সংযোগ সড়ক না থাকায় ঘুমধুম ইউনিয়নবাসীকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ-বিগত ১৯৯১ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের আমলে ঘুমধুম-নাইক্ষ্যংছড়ি সংযোগ সড়ক নির্মাণের সব ধরনের বাস্তবায়নমুখি একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ধারাবাহিকতায় মন্ত্রণালয়ে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে । তারই ধারাবাহিকতায় তত্কালীন বিএনপি সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ ১৯৯৫ সালে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সফর করেন । উপজেলা সদরের নাইক্ষ্যংছড়ি ছালেহ আহমদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভা শেষে নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সংযোগ সড়কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে । নিয়মের গতিতেই নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হতে চাকঢালা পেয়ে কিছু অংশ মাটি কেটে চলাচল রাস্তা সৃজন করে কিছু অংশ ইট বিছানোর কাজ করে ,কিছু অংশে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে । ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দীর্ঘ ১৮ বছর অতিবাহিত হলেও আলোর মুখ দেখেনি সড়কটি । পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে । কিন্তু পরিতাপের বিষয় বিএনপি’র প্রকল্পে হাত দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার । আওয়ামী লীগ সরকার তার পরেও নাইক্ষ্যংছড়ির দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক জনগণের দুঃখ লাগবে পুনঃ মাটি ভরাট ও ইট বিছানো কাজ অনেক অগ্রসর করে । সরকার পরিবর্তন হয়, আসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। স্থানীয় বিএনপি জামায়াতের সুবিধাভোগী লুটেরা দায়িত্বশীল নেতাদের আখের গোছানো সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সংযোগ সড়কটি ভিত্তি প্রস্তর, সামান্য মাটি ভরাট অল্প ইটেই সীমাবদ্ধ থেকেই যায় । উন্নয়নের এই করুণ দৃশ্য দেখতে নাইক্ষ্যংছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নবাসী ১৮টি বছর পার করে দেয় চরম দুর্ভোগ পোহানোর মধ্যদিয়ে । দীর্ঘ এ সময়ে সড়কটি আলোর মুখ দেখতে পায়নি।