কৃষকের চোখে সোনালী স্বপ্ন
দিনাজপুরে বোরো আবাদ চলছে পুরোদমে
অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৩, ২১:১৬
দিনাজপুরের কৃষকরা কোমড় বেঁধে বোরো চাষে নেমেছেন। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী শ্রমিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে এখানকার ক্ষেত-খামার। ভোর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত চলছে ক্ষেত তৈরি, বীজতলা উত্তোলন এবং বোরো চারা রোপণের কাজ। এ সবগুলো কাজেই নারী ক্ষেতমজুরদের অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও মজুরির ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করলেও পুরুষদের সমান মজুরি পাচ্ছেন না নারী ক্ষেতমজুররা। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ক্ষেতমজুরদের মজুরি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা হলেও নারীদের দেয়া হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০টাকা। তবে গৃহস্থরা বলছেন, নারীরা ভারী কাজ করতে পারে না বলেই তাদের মজুরি একটু কম দেয়া হয়।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৯ হেক্টর জমি। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ২৩ হাজার ৮১১ হেক্টর এবং উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমি। এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমি। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের জন্য ৯৫২ হেক্টর এবং উফশী জাতের ৭ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমি। উপজেলা ভিত্তিক আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে, সদরে ১৫ হাজার ৮৩২ হেক্টর, চিরিরবন্দরে ১৬ হাজার ৩৬০ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২৫ হাজার ৩০ হেক্টর, বীরগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৪০ হেক্টর, বিরলে ১২ হাজার ৫৪০ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ১৭ হাজার ৭৭৮ হেক্টর, ফুলবাড়িতে ১৩ হাজার ৫৭০ হেক্টর, বিরামপুরে ১৬ হাজার ১৪৫ হেক্টর, খানসামায় ৭ হাজার ২০৪ হেক্টর, কাহারোলে ৬ হাজার ৪৪০ হেক্টর, বোচাগঞ্জে ৯ হাজার ৬৯০ হেক্টর, হাকিমপুরে ৭ হাজার ১৬৫ হেক্টর ও ঘোড়াঘাটে ৯ হাজার ৫৫ হেক্টর জমি।
ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম তালুকদার, চকচকার আবু বক্কর, কাঁটাবাড়ির আসাদুল হক, বিরামপুরের সাহাবাজপুরের মো. মিঠু, নবাবগঞ্জের রঘুনাথপুরের আজিজুর রহমান, হাকিমপুরের সাতকুঁড়ির জাকির হোসেন খান, চিবিরর বন্দরের তাজপুরের রোস্তম আলী, পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ার ওয়াজেদ আলী বলেন, শীত ঘনকুয়াশায় আবাদে কিছুটা ক্ষতি হলেও সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন কৃষকরা বোরো আবাদে কোমড় বেঁধে নেমেছেন। সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের সংকট না থাকার পাশাপাশি বিদ্যুত্ সংকট না হলে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না কৃষকদের।
এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় বোরো আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়েও এলাকার কৃষকরা বেশি পরিমাণ জমিতে বোরো আবাদ করবেন বলে আশাবাদি জেলা কৃষি বিভাগ। তবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো রোপণের কাজ চলবে।