ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘ক্রুইফ পরীক্ষা’ আজ

হিমালয় দুহিতা নেপালের কাঠমান্ডুতে ফুটবলারদের নিবিড় অনুশীলনে পাঁচদিনের আট সেশনে ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ বাংলাদেশের ফুটলারদের নিজেদের মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। প্রচলিত ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে নতুন ঘরানায় খেলার কৌশল দেখিয়েছেন। একটা মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কিভাবে দলটাকে একটা ভালো পজিশনে দাঁড় করানো যায় তা নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে ক্রুইফ এবং তার সহকারী রেনে কেস্তারের। চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের ‘ডি’ গ্রুপের বাছাই পর্বের উদ্বোধনী দিনে দশরথের মাঠে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আজ। বাংলাদেশ সময় সোয়া দুইটায় শুরু হবে খেলাটি। ফিলিস্তিনের মতো দলকে কিভাবে প্রথম ধাক্কাটা সামাল দিবেন তা নিয়ে খুবই টেনশনে আছেন ডাচ কোচ। নেপালের আসার পর কোচ একদিনও দাড়ি কামাননি। খোঁচা খোঁচা দাড়িতে মুখ ভরে গেছে। জানতে চাইলে বলেন, ‘ব্যস্ত আছি, সেভ করার সময় পাইনি।’ কোচ ফিলিস্তিনকে নিয়ে অনেক রকম হিসাব নিকাশ করতে গিয়ে খুব টেনশনে আছেন। কারণ ভারতের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ৪-২ গোলে জিতেছে। কিভাবে ভারতকে বিপদে ফেলে গোল করেছে তা বারবার খেলোয়াড়দের দেখিয়েছেন কোচ। প্রথম ধাক্কাটা সামাল দেয়ার জন্য ডাচ কোচ অনেক পরিকল্পনা করছেন। তার কাছে আজকের ম্যাচটা ফাইনালের মতোই। যদিও এ জন্য আট সেশনের অনুশীলন যথেষ্ট নয়। তারপরও স্বল্প সময়ের মধ্যেই চলছে নতুন কিছু আনার চেষ্টা। ৪-২-৩-১ পদ্ধতির খেলাটা প্রয়োগ করার ইচ্ছে ক্রুইফের। ডাচ ফুটবলের পাঠশালায় কোচ যেভাবে চাইছেন, যা করে দেখাতে চাইছেন খেলোয়াড়রা সেটা কতটুকু রপ্ত করতে পারছেন তা পরীক্ষা দিয়ে দেখাতে হয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলাররা ভালো খেলেও সেট পিস এবং কর্নার থেকে গোল হজম করে অনেক ম্যাচ হেরেছে। ডিফেন্ডাররা কিভাবে এসব পরিস্থিতি সামাল দিবেন তা দেখানো হয়েছে। হার্ড পাসিং, বলের উপর চাপ, ফিজিক্যাল প্রেসিং, কর্নার থেকে বল ফেলা, সেটপিস থেকে বিপজ্জনক স্থানে বল ফেলা, আক্রমণ করার কৌশল, বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটা ছয় সেকেন্ডের মধ্যে ফিরিয়ে আনার কৌশল শেখানো হচ্ছে। কাউন্টার অ্যাটাক সামাল দেয়ার কৌশল, সবই করাচ্ছেন। অধিনায়ক সুজনের মন্তব্য ‘এমন অনুশীলন তারা আগে করেননি।’ মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগের চেয়ে এখন উন্নত।’ একই মত আরেক মিডফিল্ডার মারুফের। খেলোয়াড়রা বুঝতে পারছেন এক হয়ে কঠিন লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। দেশের স্বার্থে নিজেদের স্বার্থে ভালো খেলতে হবে। ডাচ কোচরা আজ থেকে মাঠে দেখতে পারবেন বাংলাদেশের ছেলেরা কতটা প্রয়োগ করতে পারছেন। ক্রুইফ বলেছেন ‘ফুটবল বাংলাদেশের সম্মানটা খুব ভালো অবস্থানে নেই। একটা সাফল্য পেলে আবার উজ্জীবিত হয়ে উঠবে।’ তিনি খেলোয়াড়দের বলেছেন, ‘আমার কথা ভুলে যাও। আমি বিদেশি। এক সময় চলে যাবো। কিন্তু তোমরা থাকবে। দেশের জন্য লড়তে হবে। ষোল কোটি মানুষের জন্য লড়তে হবে।’ কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। যুদ্ধ ময়দানের ফিলিস্তিন ফুটবল ময়দানে অনেক শক্তিশালী দল। ফিলিস্তিনকে শক্তিশালী দল ধরে নিয়েই ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু এসেছেন ডাচ কোচ। ওদের খেলোয়াড়দের কাছে আজকের ম্যাচ নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা ৩-০ গোলে জিতব। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখন খেলোয়াড়রা মাঠে কতটা প্রয়োগ করতে পারবেন সে পরক্ষা হবে আজ ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে। ২০০৬ বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত প্রথম চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে ঢাকায় ফিলিস্তিনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ২০১১ সালে মিয়ানমারে ফিলিস্তিন ২-০ গোলে বাংলাদেশকে হারায়।