সৈয়দপুর শহরে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে না!

সৈয়দপুর শহরে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে না। যান চালকদের ট্রাফিক আইন না মানা এবং ট্রাফিক পুলিশের জনবল সংকট ও রাস্তার ওপর দোকান বসায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। ফলে নিত্যদিনের যানজটে দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না শহরবাসীর।

ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপুল জনসংখ্যার সৈয়দপুরে প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত সড়ক নেই। মাত্র ছয়টি প্রধান সড়ক ঘিরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার গড়ে উঠেছে এই শহরে। সেই সঙ্গে সড়কের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচলে যানজট পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক করে তুলছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দায়িত্ব পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপর ন্যস্ত থাকলেও জনবল সংকটে তারাও হিমশিম খাচ্ছে দায়িত্ব পালনে।

সূত্রমতে, শহরে যানবাহনের সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সড়কে পুলিশের ট্রাফিক পয়েন্ট পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে সাতটিতে উন্নীত করা হয়েছে। পয়েন্টগুলো হলো নিয়ামতপুর বাস টার্মিনাল মোড়, পাঁচমাথা মোড়, বিমানবন্দর মোড়, মদিনা মোড়, পোস্ট অফিস রেল ঘুমটি মোড়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সড়ক মোড় ও সিঙ্গার শো-রুম সড়ক। এসব পয়েন্টে সকাল-বিকাল দুই শিফটে দুইজন করে ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা। কিন্তু ট্রাফিক পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হলেও ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়ানো হয়নি। দায়িত্ব পালনের জন্য মাত্র ১৪ জন পুলিশ ও কর্মকর্তা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন পুলিশ এবং ৫ জন ট্রাফিক কর্মকর্তা। ফলে এই স্বল্প সংখ্যক লোকবল নিয়ে ট্রাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে ট্রাফিক বিভাগের। এর মধ্যে কেউ অসুস্থ বা ছুটিতে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হয়ে ওঠে। ফলে নিয়মমাফিক ট্রাফিক পয়েন্টে ডিউটি দেওয়া সম্ভব হয় না। সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবু নাহিদ পারভেজ চৌধুরী জানান, জনবল সংকটের জন্য ট্রাফিক পয়েন্টে সার্বক্ষণিক লোক দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলে শতভাগ শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। সৈয়দপুর উপজেলা শহর হলেও জেলার সমান গুরুত্ব এই শহরের। এতে করে মানুষের যাতায়াত এবং সড়কে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনে চলাচল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।