একাত্তরে গণহত্যাকারীদের পক্ষে মাঠে নেমেছে বিএনপি :১৪ দল

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল বলেছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যারা ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা এবং দুই লাখ মা-বোনকে নির্যাতন করেছে বিএনপি সেই গণহত্যাকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ‘প্রত্যক্ষ দোসর’ খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপির পৃষ্ঠ-পোষকতায় জামায়াত-শিবির সারাদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে। অপশক্তির ‘নাশকতা’ মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১৪ দল আরো বলেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতি ২, ৩ ও ৪ মার্চ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ১৪ দলের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। ১৪ দলের পক্ষে ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে ফিরেই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে মাঠে নেমে গেছেন। জামায়াতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য আগামী মঙ্গলবার হরতাল দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার ধারাবাহিক চেষ্টার কারণে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ে যদি কেউ অসন্তুষ্ট হয় সেক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। যা অন্য কোন দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেই। তারপরও কেন এই তাণ্ডব? এর মানে তারা দেশের আইন মানে না, আদালত মানে না, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। নাসিম বলেন, জামায়াত-শিবির সুপরিকল্পিতভাবে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছে তারা। এদের কাছে দেশের স্বাধীনতা নিরাপদ নয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াত-শিবিরের যেকোন তাণ্ডব প্রতিহত করতে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। বৃহস্পতিবার ১৪ দলের নেতাকর্মী ও জনগণ প্রতিরোধ করেছে বলেই তারা মাঠে টিকতে পারেনি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম প্রমুখ।