যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে জাতি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

দেশের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে যা দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গতকাল প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল প্রভাব এবং চাপমুক্ত। কিন্তু সম্প্রতি শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর এবং বিচার বিভাগের সমান্তরাল অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো সংঘাতময় করে তুলেছে। আমরা শাহবাগের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে নই— কিন্তু তাদের কিছু কিছু দাবি ও কর্মসূচি প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। তাছাড়া গত দুই দিনে প্রায় ৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথম। এক মাসে শতাধিক মানুষের মৃত্যু কারো কাম্য হতে পারে না। আমি সহিংসতা যেমন সমর্থন করি না— ঠিক তেমনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো, তারা যেনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরশাদ বলেন, এখানে আরো একটি স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে আমার বক্তব্য তুলে ধরতে চাই। সম্প্রতি ফেসবুক ও ব্লগে আল্লাহ্্ রসূল (সাঃ) এবং আমাদের পবিত্র কোরআন সম্পর্কে যেভাবে অশালিন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেছে, তা কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলমান বরদাস্ত্ করতে পারে না। তাই এর প্রতিবাদে পীর-ওলামায়ে মাশায়েকসহ তৌহিদী জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। আল্লাহ্্ রসূল বিরোধী কার্যক্রম আমি এবং আমার দল বরদাস্ত করবে না। তিনি বলেন, জাতীয় জীবনের এই সন্ধিক্ষণে ধীর-স্থিরভাবে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষভাবে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফরকালে আমাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভাষা হতে হবে সংযত ও সুশৃংখল।