উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদন
বিনিয়োগ মন্দায় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমছে
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৩, ১৯:৪৬
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণের এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগ চাহিদা হ্রাস, উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি, মূলধনের স্বল্পতা ও যথোপযুক্ত নীতিকাঠামোর অভাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। দেশে বিনিয়োগ স্বল্পতার চিত্র বুঝা যাচ্ছে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্প কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়া থেকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৭৯৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। একই সময়ে ঋণপত্রের বন্দোবস্তও কমেছে ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে শিল্প ঋণ বিতরণও কমে যাচ্ছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্প ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের তুলনায় ৪৯৭ কোটি টাকা কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারিতে শিল্পের যৌগ উত্পাদন সূচক ছিল ৬০৩ দশমিক ৬৯। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তা হ্রাস পেয়ে গত বছরের আগস্টে হয়েছে ৫৮১ দশমিক ২৭ ও সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৫৭১ দশমিক ৬৪। শিল্পের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগের চাহিদা হ্রাস। এছাড়া সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগযোগ্য মূলধন কমে যাওয়া, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত খাতে সরকারি বিনিয়োগের অপর্যাপ্ততা শিল্প উত্পাদনকে আরও সঙ্কুচিত করছে।
উন্নয়ন অন্বেষণের মতে, বর্তমান শিল্পনীতি একদিকে শিল্প খাতের বর্তমান বাধাগুলো অতিক্রম করতে পারছে না, অন্যদিকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা তাও অর্জনে সহায়ক হচ্ছে না। এ অবস্থায় নতুন ও কার্যকর শিল্পনীতি প্রণয়ন করতে হবে যা চাহিদা বাড়াবে, দ্রব্যের বৈচিত্র্য আনয়নের মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি করবে এবং নতুন শ্রমশক্তির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। এছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য উত্পাদন ও শিল্পায়ন নির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হতে হবে।
এদিকে বিগত ৫ বছরে মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) বৃহত্ শিল্পের অবদান আগের ৫ বছরের তুলনায় কমেছে। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে ২০০৬-০৭ অর্থবছর পর্যন্ত বৃহত্ শিল্প খাতের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর গত পাঁচ বছরে (২০০৭-০৮ থেকে ২০১১-১২) এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসাকে নির্দেশ করেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার যে হারে কমছে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির হার তার চেয়ে কম হারে বাড়ছে। অন্যদিকে, সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় স্থির। এতে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কর্তৃক আরোপিত শর্ত পালন করতে গিয়ে সরকার বাণিজ্য উদারীকরণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পনীতি বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে আমদানি বিকল্পন শিল্পায়ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। একইসাথে নীতি-নির্ধারকরাও শিল্পনীতির দীর্ঘকালীন সমস্যা সমাধানে কার্যকর টেকসই নীতি গ্রহণে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন।