লোকবল হ্রাস করায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষণ দুরূহ হয়ে উঠেছে

শ্রীমঙ্গল (মৌলভী বাজার) সংবাদদাতা দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বনবিভাগের উদাসিনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার আগেই বিভাগীয় লোকবল প্রয়োজনের এক চতুর্থাংশে কমিয়ে আনার ফলশ্রুতিতে জাতীয় উদ্যানের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা দিনে দিনে কঠিন হয়ে উঠছে। ১২ শত ৫০ হেক্টর আয়তনবিশিষ্ট রেইনফরেষ্ট লাউয়াছড়ার বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়িষ্ণু ধারা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) বনবিভাগের সাথে আরো কয়েকটি সরকারি বিভাগ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিত্বমূলক সুশীল সমাজের সংশ্লিষ্টতায় গঠন করা হয় ‘সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি’। এই কমিটি লাউয়াছড়ার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মূল কাজের জন্য বনবিভাগের লোকজনের সাথে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক গঠিত কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বনপ্রহরার কাজে নিয়োজিত ২০ জন সিপিজি সদস্য বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ফরেষ্ট গার্ড-এর নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করার নিয়ম রয়েছে। এ কাজে একজন সিপিজি সদস্য দৈনিক মাত্র ৫০ টাকা মজুরিতে দায়িত্ব পালন করে। বনবিভাগ এখানে নিজেদের লোকবল কমিয়ে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর অধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য শোনা যায়। বনবিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট রয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ এর শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ। এই রেঞ্জে কর্মকর্তা-কর্মচারীর মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা মোট ২৯ জন। কিন্তু বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ), ফরেষ্টার ও ফরেষ্ট গার্ডসহ ২১টি পদ দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য। বন্যপ্রহরায় দুর্দশাগ্রস্ত এ অবস্থার প্রেক্ষিতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল্যবান গাছ চুরি এবং হরিণ, বনমোরগ, শুকর প্রভৃতি বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না। অপরদিকে বনের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে পর্যন্ত নেমে আসছে।