নকশাবহির্ভূত ৩০ ভবন শনাক্ত!

কুসিকের দুই দফা অভিযান

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীর অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃপক্ষের অভিযানে দুই দফায় অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ৩০টি ভবন শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত ২১টি ভবন শনাক্ত করা হয় এবং এসব ভবনের দেয়ালে ‘নকশাবহির্ভূত ভবন’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত ৪ এপ্রিল মেয়র প্রথম দফা অভিযানে নেমে অনুমোদিত নকশাবহির্ভূত ৯টি ভবন শনাক্ত করে কুসিক কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভবনের মালিক বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে কয়েকশ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। অতীতে যাদের জায়গার সামনে বড় রাস্তা আছে তাদের কম তলার এবং যাদের বাড়ির প্রবেশের রাস্তা সরু তাদের বেশি তলার ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়। তাদের বাড়ির দুদিকে বড় রাস্তা আছে, তবু তারা কম তলার অনুমোদন পেয়েছেন। পুরো নগরীতে অনুমোদিত নকশার বাইরে বহু ভবন পাওয়া যাবে।’

এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাক-এ গত ২০ এপ্রিল ‘কুমিল্লা নগরীর ৯০ শতাংশ ভবন নকশাবহির্ভূত! নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ১১০ ভবন ভাঙার নোটিস শুধুই কাগজেকলমে। জীবনের ঝুঁকি আর আতঙ্কে হাজারো মানুষের বসবাস’—শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর কুসিক কর্তৃপক্ষসহ নগরজুড়ে বিভিন্ন মহল নড়েচড়ে বশে।

কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘কুমিল্লা নগরীতে অননুমোদিত নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন কয়েকশ ভবন রয়েছে। এরই মধ্যে দুই দফায় অভিযান চালিয়ে আমরা ৩০টি ভবন শনাক্ত করেছি। কেউ যেন এসব ভবনের ফ্ল্যাট কিনে কিংবা ভাড়া নিয়ে সমস্যায় না পড়েন সেজন্য এগুলোর দেয়ালে ‘এই ভবন অনুমোদিত নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত, জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো—অনুরোধক্রমে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন’—লেখা সম্বলিত লাল রঙের ব্যানার লাগিয়েছি। এসব ভবনের মালিকদের চিঠি দেওয়া হবে। তাদের ভবনের নকশা ও নথিপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’