নান্দাইলে সাত মাস পর অপহূতা উদ্ধার
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৭
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ কৌশলে এক অপহূতাকে (১৫) রাজধানীর কাঁচপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার অপহূতার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জবানবন্দী গ্রহণের জন্যে জুডিশিয়াল হাকিম আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মেয়েটির বাড়ি নান্দাইল উপজেলার অরণ্যপাশা গ্রামে। সে নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়েটি জানায়, এ ঘটনাটি তার জীবনের সমস্ত কিছু তছনছ করে দিয়েছে ওই অপহরণকারী চক্রটি। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অপহরণের পর মেয়েটির অভিভাবক ময়মনসিংহের বিচারিক হাকিম আদালতে অপহরণের মামলা রুজু করে। আদালত গত ২০ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল থানাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকা মেয়েটি শুক্রবার রাতে এ প্রতিনিধিকে জানায়, গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে তার চাচাতো বোনজামাই উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউপির কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমন মিয়া বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সুমন তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ফিরে দিন শেষে তাকে গফরগাঁও উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামে সুমনের বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে তুলে। সেখানে তাকে আটকে রেখে সুমন তার ওপর দশদিন যাবত্ পাশবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের কারণে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে মেয়েটির বাবা-মা মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে সুমন মেয়েটিকে গাজীপুর কোনাবাড়ি এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে আসে। মেয়েটি সেখান থেকে মুঠোফোনে তার অবস্থানের কথা বাড়িতে লোকজনকে জানায়। এ খবরটিও সুমন জেনে গেলে মেয়েটিকে কোনাবাড়ি থেকে সরিয়ে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখে।