মির্জাপুরে চার দিন পর অপহূত শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার তিন

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা ৯ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবীতে ৬ বছরের শিশু জোনায়েত হোসেনকে অপহরণের ৪দিন পর পুলিশ শুক্রবার রাতে তাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে। তবে অপহরণের মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গতকাল শনিবার মির্জাপুর থানা-পুলিশ জানায়, অপহূত জোনায়েতের পিতা মো. জুয়েল মিয়া ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এবং মা পারভীন বেগম ওরফে সোমা বেগম গত ৬ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার চামারি ফতেপুর গ্রামে। জোনায়েতের নানা ফরমান আলী এবং নানী শাহানাজ বেগম জানান, মেয়ের জামাই আইনজীবী এবং মেয়ে বিদেশে থাকায় নাতী জোনায়েতকে তারাই লালন পালন করেন। কয়েকদিন পূর্বে সুরুজ্জামান নামে একদিন মজুর তাদের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করতে আসে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নানা কৌশলে জোনায়েতকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার দু’দিন পর থেকেই বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফরমান আলীর মোবাইলে ফোন আসতে থাকে জোনায়েত আমাদের কাছে আছে। ৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাকে ফিরত পাওয়া যাবে। এ দিকে ফরমান আলী এই ঘটনা মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে মির্জাপুর থানা-পুলিশ অপরাধীদের ধরতে এবং জোনায়েতকে উদ্ধার করতে বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পাতে। মোবাইলের ট্যাকিং করে পুলিশ নিশ্চিত হয় অপরাধীরা কালিয়াকৈর ও এর আশপাশে আছে । শুক্রবার রাতে পুলিশ অফিসার শ্যামল দত্তের নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকধারী পুলিশ চান্দরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহূত জোনায়েতকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার ভাটিয়ারচর গ্রামের আজমত আলীর ছেলে মো. আক্তার হোসেন (২৪), চর সাজাই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং চিলমারি থানার নটাকান্দি গ্রামের মতলব মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (২৫)।