প্রভুদের নির্দেশে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন খালেদা :প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৪১
খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি বিদেশে গিয়ে বিদেশি প্রভুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন। তা বাংলার জনগণ মেনে নেবে না। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শনিবার সকালে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় পদ্মা সেতুর জন্য নদী শাসন (নদীর তীর রক্ষা) কাজের উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। পদ্মার পারে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের পাশে মতবিনিময় সভা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা বিশাল জনসভায় পরিণত হয়। বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শুনেছি তিনি চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। কী জন্য গিয়েছিলেন তা আমি জানি না। সেখান থেকে ফিরে এসে গলার সুর বড় করে সংবাদ সম্মেলন করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিলেন। তাদের রক্ষা করার জন্য জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তরুণ সমাজ ও শিশু-কিশোরসহ দেশের জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে যখন সোচ্চার তখন আপনি কাদেরকে বাঁচানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন করলেন? যারা মসজিদের ভেতরে হামলা করে জায়নামাজ পুড়িয়ে দেয়, রাস্তায় গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তাদের?”
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর বাংলাদেশে চলমান সহিংসতাকে ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ’ উল্লেখ করে তাতে সমর্থন জানান। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী জনগণের চাহিদা আমলে না নিয়ে, জনগণের সঙ্গে না থেকে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে থাকেন। আমি তাকে আহ্বান করবো, ওদের সঙ্গ ছেড়ে জনগণের সঙ্গে থাকেন। বাংলার জনগণ ওদের ছাড়বে না, জনগণ যা চায় তা আদায় করে ছাড়ে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন ক্ষমতায় এসে আইন করে বিচার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। রাজাকারদের দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দিয়েছে, মন্ত্রী বানিয়েছে। এ দেশের লাল-সবুজ পতাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল।
শেখ হাসিনা জানান, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এ জন্য আগামী চার বছরের বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি যখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলেছিলাম তখন এদেশের মানুষের কাছে যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমি আনন্দিত। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। ইতোমধ্যে আমরা সেতুর আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছি। সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আজ আমরা পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জাজিরা পয়েন্টে নদী শাসনের কাজের উদ্বোধন করেছি। আগামী একমাসের মধ্যে ব্রীজের এ্যাপ্রোচের কাজ শুরু করবো এবং পরবর্তীতে সেতুর মূল কাজ শুরু হবে। আমরা আবারো দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, তারা মে মাস নাগাদ ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে আমাদের পদক্ষেপের সত্যিকারের প্রতিফলন দেখতে পাবে। কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণেই এ কাজ পিছিয়ে যাবে না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে সরাসরি পদ্মা পারে নামেন। তিনি ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা (নদী শাসন) প্রকল্পের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। সভায় শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি বিএম মোজাম্মেল হক প্রধানমন্ত্রীর হাতে সেতুস্মারক তুলে দেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। বাংলার মানুষ আজ জেগে উঠেছে। দেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সোচ্চার। প্রত্যেকেই যু্দ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। আমরা ইতোমধ্যে সেই বিচার কাজ শুরু করেছি। রায়ও শুরু হয়েছে। বাংলার মাটিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শেষ হবে। এই বাংলা রাজাকার মুক্ত হবে। আলবদর মুক্ত হবে। যুদ্ধাপরাধী মুক্ত হবে।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরে এদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধু সে কাজ শেষ করার আগেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পরে সেই অপরাধীদের বিচার না করে বিদেশ থেকে তাদের এনে মন্ত্রী বানিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য জামায়াত-শিবির মানুষ হত্যা করছে। পুলিশ হত্যা করছে। লুটপাট করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য খালেদা জিয়া প্রেস কন্ফারেন্স করে বিচার বন্ধের চেষ্টা করছেন। কারো সাধ্য নেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার। এই রায় কেউ বন্ধ করতে পারবে না ইনশাআল্ল¬াহ।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এম.পি। স্থানীয় এআর হাওলাদার জুট মিল্স ময়দানে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এম.পি, হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এম.পি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আহম্মদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ প্রমুখ।