দুপুর থেকেই দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ

তিনদিনের হরতালকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে চাইলেও দূরপাল্লার গণপরিবহন না চলায় অনেকের সে সৌভাগ্য হয়নি। হরতালের আগেরদিন পরিবহন কোম্পানিগুলো যথাসম্ভব তাদের ট্রিপ বাড়িয়ে দিলেও গতকাল ঘটেছে উল্টো ঘটনা। বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহন ভাংচুর হওয়ায় রাজধানী থেকে বিকাল তিনটার পর দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। যেসব যাত্রী প্রয়োজনে কিংবা হরতালকে সামনে রেখে গ্রামের বাড়িতে যেতে চেয়েছেন তাদেরকে হতাশ হতে হয়েছে। বিকাল তিনটায় রাজধানীর সায়দাবাদের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে খোঁজ নিলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়, দুপুর আড়াইটার পরে আর কোন বাস ছাড়বে না। স্টারলাইন কাউন্টারের একজন টিকিট বিক্রেতা জানালেন, তাদের শেষ বাস দুপুর আড়াইটায় ছেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলামুখী বাস সার্ভিসগুলো একই পন্থা নিয়েছে। তবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সিলেট রুটের কিছু বাস ছেড়ে গেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাংচুর হয়েছে। কোন কোন জায়গায় হরতাল ও ১৪৪ ধারা ছিল। এ কারণে অনেকে গাড়ি ছাড়তে নিরুত্সাহিত হয়েছেন। তবে তিনি বলেন, সব রুটের গাড়ি যে বন্ধ ছিল তা নয়। কিছু কিছু রুটে গাড়ি চলেছে। সায়দাবাদ কাউন্টারে চট্টগ্রাম রুটের যাত্রী সাখাওয়াতুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতি হরতালের আগে তিনি গ্রামের বাড়ি চলে যান। সে বিবেচনায় গতকালও তিনি বাস ধরতে সায়দাবাদ গেছেন। তবে কোন বাস না ছাড়ায় তিনি চট্টগ্রাম যেতে পারেননি। এরকম অনেককে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। সব পরিবহন কোম্পানি দুপুর আড়াইটার পর তাদের বাস চলাচল বন্ধ করে দিলেও একটি বাস কাউন্টারে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে ওই পরিবহন কোম্পানি সাড়ে চারশ টাকার জায়গায় সাড়ে পাঁচশ টাকা ভাড়া আদায় করেছে।