৬০ ঘণ্টার হরতালে জোরদার নিরাপত্তা
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৪২
আজ রবিবার থেকে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির টানা ৬০ ঘন্টার হরতালে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হরতালের মধ্যেই আজ রবিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ঢাকায় আসছেন। এজন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি থাকছে মোবাইল কোর্ট ও বোম ডিসপোজাল টিম।
এদিকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে ভীতি বিরাজ করছে। আজ রবিবার ভোর ৬টা থেকে একটানা জামায়াতের ৪৮ ঘন্টা হরতাল। এ হরতাল শেষ হওয়ার পর পরই মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘন্টা বিএনপির হরতাল। গত কয়েকদিন ধরে জামায়াত-শিবিরের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলছে। একারণে জামায়াতের টানা ৪৮ ঘন্টা ও বিএনপির ১২ ঘন্টা হরতালে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সচিবালয়, বারিধারা, কূটনৈতিক এলাকা, বিমান বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, বিগত হরতালে মহানগরীতে যে ব্যবস্থাপনা পুলিশের ছিল তা রাখা হয়েছে। জামায়াত-শিবির কিংবা বিএনপির হরতালে যে কোন ধরনের নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দ্বিধা করবেন না তারা। নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বাহিনী সেটা পালন করবেই। নিরাপত্তা বিধানে সকলকে সহযোগিতা প্রদানে পুলিশ কমিশনার আহ্বান জানিয়েছেন। অপর এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনদিনের হরতালে বিজিবি পুলিশকে সহায়তায় মাঠে থাকবে। আগের কয়েকটি হরতাল পালনে সহিংস ঘটনার ধরন ও নাশকতার আলোকে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, হরতালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য র্যাব বরাবর মাঠে ছিল। আজ থেকে টানা ৬০ ঘন্টা হরতালে র্যাব সদস্যরাও মাঠে থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের জানমাল রক্ষায় র্যাবের পক্ষ থেকে যা দরকার তা করা হবে বলে তিনি জানান। পুলিশ সদর সূত্রে বলা হয়, সহিংস ঘটনাগুলোর ধরন মাথায় রেখে সারা দেশে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়েছে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ৬০ ঘন্টা হরতালে দেশব্যাপী তিন স্তরের নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষার্থে কঠোর থেকে প্রয়োজনে কঠোরতর হবে।