বিএনপি-জামায়াতের হরতাল প্রতিহত করবে ১৪ দল
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৬
বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা তিনদিনের হরতাল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিয়েছে ১৪ দল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন এই জোট গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বিরোধী দল আহূত হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। বিকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমাবেশ। সমাবেশে ১৪ দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যে এ বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে একাত্তরের লাখো শহীদের অর্জিত জাতীয় পতাকা, বাঙ্গালি জাতিসত্তার অন্যতম প্রতীক শহীদ মিনার এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমকে যারা অবমাননা করেছেন সেই অপশক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়া আগামী মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছেন। একাত্তরের লাখ লাখ গণহত্যাকারীর পক্ষে সরাসরি খালেদা জিয়া মাঠে নামায় জাতি স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছে। জনগণকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে আসার আহ্বান জানিয়ে ১৪ দলের নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকবেন। এবার জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কোথায় যাবেন। হরতাল করবেন নাকি গাড়ি চালাবেন।
রাজধানীর ২১টি পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশে ১৪ দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির নেত্রী এখন খালেদা জিয়া। তার মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন হয়ে গেছে। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, স্বাধীনতা, জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনার প্রশ্নে কোন আপস করবেন না। সরকার কোন রামকৃঞ্চ মিশন নয়। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের প্রেক্ষাপটে আত্মরক্ষার্থে এবং জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যা করেছে তা সঠিক হয়েছে। যারা জাতীয় পতাকা চান, শহীদ মিনার চান, মসজিদের পবিত্রতা চান, মন্দিরের অক্ষুণ্নতা চান তাদের স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির ছায়াতলে আসতে হবে। খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে নাসিম বলেন, আপনি সংবাদ সম্মেলনে যারা জাতীয় পতাকা পুড়াল, শহীদ মিনার ভাঙল, মসজিদে আগুন দিল, মসজিদের টাইলস ভাঙল, যারা মন্দিরে আগুন দিল তাদের বিষয়ে কিছু বললেন না। আপনি কোন বাংলাদেশ চান। আপনি তাহলে কী পাকিস্তানের পতাকা চান?
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত ও তাদের দোসর বিএনপি যৌথভাবে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে না। এটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আর এ সন্ত্রাসীদের দমনে কিছু ঘটনা ঘটেছে-যেটাকে বিএনপি গণহত্যা বলে মিথ্যাচার করছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছেন তিনি। মূলত বিএনপি-জামায়াত পাকিস্তানের এজেন্ট হয়েই ওই দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিএনপি-জামায়াতকে হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে হরতাল প্রতিহত করা হবে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বিএনপি-জামায়াত অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতার পালাবদলের জন্য দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চান না, রাজাকারদের রক্ষা করতে চান। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন বিচার বন্ধ করতে পারবেন না; রায় আমরা বাস্তবায়ন করবই।
ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ড. ওয়াজেদুল ইসলাম, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির নূর আহমেদ বকুল, ন্যাপের আব্দুর রশীদ সরকার, জাসদের মীর হোসাইন আখতার, গণতন্ত্রী পার্টির ডা. শাহাদাত হোসেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ১৪ দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা গণহত্যা দেখেননি। কারণ ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতহানিকে আপনারা কোন দিন গণহত্যা বলেননি। বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন অভিযোগ করে বলেছেন, খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেত্রীর মত আচরণ না করে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জামায়াত-বিএনপির অঙ্গসংগঠন নয়, বিএনপি জামায়াতের লেজে পরিণত হয়েছে। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
ধানমন্ডিতে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হক টিঙ্কুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মোর্শেদ কামাল প্রমুখ।