বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় খুলনার উপকূলীবাসী!

g এনামুল হক, খুলনা অফিস

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব কেটে গেলেও খুলনার উপকূলীয় এলাকার মানুষ নদীর তীব্র জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। ফণী শনিবার খুলনা অতিক্রম করলেও দমকা বাতাস আর বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তীব্রভাবে আঘাত না করলেও ফণীর তাণ্ডবে দাকোপ ও কয়রার অনেক বেড়িবাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বালুর বস্তা দিয়ে বেড়িবাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

দাকোপের বানিশান্তা ইউপির সাবেক সদস্য হালিমা হাওলাদার জানান, বর্তমানে অমাবশ্যা চলছে। এতে পশুর নদীর জোয়ারের পানি ৩-৪ ফুট বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডব আর পশুর নদীর জোয়ারের পানির কারণে বানিশান্তা বাজারের উত্তর পাশে ২শ হাত বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে ২ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, স্থানীয়রা বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফণীর তাণ্ডব ও জোয়ারের পানির তোড়ে কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়ীয়া নদীর পাশের আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে তিন কিলোমিটার এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে কপোতাক্ষ পাড়ের ২নং কয়রা, গোবরা, ঘাটাখালি, হরিণঘাটা, খালেরগড়া এবং শাকবাড়ীয়া নদী পাড়ের আংটিহারা গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।