রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন চাই
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৩, ১৯:১০
আগামী ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। নারী দিবসের প্রচলন এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও নারী যে পুরুষের সমান অধিকার-সম্মান লাভ করে তা বলা যাবে না। এমনকী নিজের ঘর থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকল ক্ষেত্রেই নারী নানা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এই অবস্থা যেমন হতাসাজনক তেমনি নারী এগিয়ে চলেছে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে। সর্বস্তরে আজ নারীর পদচারণায় মুখর। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘দ্য জেন্ডার এজেন্ডা গেইনিং মোমেন্টাম’। নারী দিসবকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের নারীদের নিজেদের কথা এবং মতামত, কীভাবে এলো নারী দিবস, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান কেমন ইত্যাদি নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের মহিলা অঙ্গন—
কোনো বাধাই বাধা নয়
—খুশী কবির
নির্বাহী পরিচালক, নিজেরা করি
শিক্ষাগত দিক দিয়ে আমাদের দেশের নারীরা অনেক এগিয়েছে। বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করাসহ চাকরি করার নানা সুযোগ তাদের জন্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনও নারীরা পথে ঘাটে নিরাপদ নয়। নিরাপত্তাহীনতাই তাদের বহু ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। আজকাল বিশেষভাবে ধর্ষণ, গণধর্ষণের হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। এমনকি গণধর্ষণের পর তা চলে যাচ্ছে সাইবার সাইটে। এটি যুক্ত করেছে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা। নারীদের অগ্রযাত্রার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ও দুর্বলতা দূর করার জন্য নারীদের একত্রে সংগঠিত থাকতে হবে। সবসময়ই দেখা যায় যে নারী এই দুর্ঘটনার শিকার, সে সবসময় নিজেকেই দোষ দেয়। এমনকি সমাজও তাকে দোষ দেয়। অথচ কোন নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার তো কোন দোষ নেই। দোষ ধর্ষকের।
----
নারীদের বড় বড় ব্যবসায়ও এগিয়ে যেতে হবে
—রোকেয়া আফজাল রহমান
চেয়ারম্যান, আরলিংকস গ্রুপ অব কোম্পানিজ ও মেট্রোপলিটন
চেম্বারের (এমসিসিআই) নির্বাহী পরিষদের সদস্য
নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি। দিন দিন নানা ক্ষেত্রে নানা ধরনের ব্যবসায় নারীরা নিয়োজিত হচ্ছেন। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ আইটি সেকশন। নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো, নারী উদ্যোক্তারা তাদের আয়ের সম্পূর্ণই দিয়ে দেয় সংসারে। কেননা তাদের জীবনের সব তার সন্তান ও পরিবার। তবে পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য নিজের খরচ আগে। নিজের নানা প্রয়োজন আগে, পরে পরিবার। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেলেও বড় বড় ব্যবসায়ে নারীদের অংশগ্রহণের হার এখনও অনেক কম। নারীদের বড় বড় ব্যবসায়ও এগিয়ে যেতে হবে। সমাজ থেকেও তাকে সে পথে এগিয়ে যেতে উত্সাহ দিতে হবে।
----
আজ প্রজন্ম চত্বরে নারীদের সমান অংশগ্রহণ আমাকে আবেগাপ্লুত করে
—অধ্যাপক মাহফুজা খানম
সভাপতি, বিশ্ব শিক্ষক সমিতি
পুঁজিবাদী সমাজ নারীকে পণ্য হিসেবে দেখছে। তাই নারী যেমন বেরিয়ে এসে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যুদ্ধ করছে তাই অসম্মানের জায়গাটাও বিস্তৃত হচ্ছে। নারীকে নতুন করে দেখার যে মূল্যবোধ তা ভেঙ্গে পড়ছে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নারীদের সমান সুযোগ থাকলেও সাম্রাজ্যবাদী সমাজে নারীর অবস্থান তৈরিতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। পরিবার, অফিস সব ক্ষেত্রেই নারীকে ব্যবহারের ও বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকে। এর বাইরে কেউ নেই। হিলারী ক্লিনটন থেকে শুরু করে প্রান্তিক নারীরাও স্বামীর অনৈতিক কার্যকলাপকে মেনে নেয়। নারীরা শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাড়ালে, প্রতিবাদ করলে সংসার টেকে না। তাই অনেকে মানিয়ে নিয়ে চলে। আশার কথা হলো-নানা ক্ষেত্রে নারী নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আজ প্রজন্ম চত্বরে নারীদের সমান অংশগ্রহণ স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রতকরণ আমাকে আবেগাপ্লুত করে। আমি একটি কথা বলতে চাই, নারীকেই ঠিক করতে হবে সে কী করবে। কাজ, সংসার, সমাজ সবকিছু মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধে তাকে অবতীর্ণ হতে যোগ্য হয়ে নামতে হবে। নারী হিসেবে সুবিধা নিতে চাইলে পিছিয়ে পড়তে হবে।
-----
চল্লিশ বছর ধরে বুকের মাঝে জাতি বয়ে বেড়াচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বোঝা
—ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা
আমি সবসময় বলে এসেছি, বাংলাদেশে যতক্ষণ পর্যন্ত না রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের পবিত্র মাটি কলঙ্কমুক্ত হবে না। তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, আড়াই লক্ষ নারীর আত্মত্যাগ, যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবার-পরিজনদের হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস চল্লিশটি বছর ধরে বাংলাদেশ বয়ে বেড়াচ্ছে। মনে পড়ে, ঢাকা-যশোর রুটে বাসের কথা, অবিরাম বাসগুলোতে চলে রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বয়ান। দুর্বিষহভাবে মানুষ তা সহ্য করত। আমি বহুবার এর প্রতিবাদ করেছি, বন্ধ করেছি ফতোয়া বয়ানের ক্যাসেট। ধর্মকে জঘন্যভাবে হাতিয়ার বানিয়ে এই দেশের উপর তারা চল্লিশটি বছর ধরে তাদের নারকীয় অভিলিপ্সা চালিয়ে গেছে, ক্ষত-বিক্ষত করেছে মানচিত্রের পবিত্রতা। বিচারের বাণী নিভৃতে পদদলিত হয়েছে বিগত চল্লিশটি বছর। আজ আমি আনন্দিত, যে আন্দোলন দীর্ঘ দীর্ঘ দিন মুক্তিযোদ্ধারা, সচেতন বিবেকসম্পন্ন মানুষেরা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি করে আসছিল, আজ তা গণ-জাগরণ মঞ্চে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রদীপ্ত হয়েছে। সেই চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়েছে শাহবাগ চত্বর, জয়-বাংলা স্লোগানে পবিত্র হয়েছে বাংলাদেশের মাটি। আমি বলব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চ কেন্দ্রীভূত নয়.., মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিরন্তর এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ সমস্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে। এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হতে চলেছে। সমস্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করছি এবং বাংলাদেশের পবিত্র মানচিত্র থেকে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজাকারদের সমস্ত রকম কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, তিরিশ লক্ষ শহীদ ও আড়াই লক্ষ নির্যাতিত বীরাঙ্গনা নারীদের পক্ষ থেকেও বিচার দাবি করছি।
-----
সকল নারী শিক্ষিত হলেই দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে
—রাশেদা কে চৌধুরী
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা
শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অর্জনের ধারা শুরু হয়েছে এই শতাব্দীর শুরু থেকে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও দেখা যায় না। এমনকি গতবছরও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে নারীরা ১১% বেশি অংশগ্রহণ করেছিল পুরুষদের চেয়ে, কিন্তু এসএসসিতে ১১% কম। আবার কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ হার ৪ শতাংশও না। নিম্নবিত্ত ঘরের মেয়েদের ক্ষেত্রে, হয় তারা গার্মেন্টসে যাবে নয় বিয়ে। এ যেন তাদের জন্য গত্বাঁধা, এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। নিম্নবিত্ত নারীদের আরও বেশি শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের জন্য উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবার পথ খুলে দেয়া যেতে পারে। উচ্চ শিক্ষায় নারী পুরুষের সমতা এলে এবং সকল নারী শিক্ষিত হলেই এদেশ সামনের পথে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে।
------
গণমাধ্যম এসব নিপীড়নের তথ্য আমাদের কাছে তুলে ধরছে
—অধ্যাপক সাদেকা হালিম
তথ্য কমিশনার
আমাদের দেশের মেয়েরা সাহসী, দৃঢ় প্রত্যয়ী। কোন ধরনের নির্যাতন, বাধাই তাদের আটকে রাখতে পারেনি। তাই তারা এগিয়ে চলেছেন সামনের পথে। প্রজন্ম চত্বরে নারীদের মিছিল, অগ্নিকণ্ঠী লাকির স্লোগান, এসবই তাদের সাহসিকতার প্রমাণ। তাদের এই প্রতিবাদী অবস্থান সমাজে নারীর চিরচেনা রূপকে পাল্টে দিয়েছে। আমাদের সমাজ নারীদের যতই পিছিয়ে টানুক না কেন, তা কখনই সত্য হয়নি। স্ত্রী পড়তে চেয়েছে দেখে স্বামী তার আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল। সে নারী অন্য হাতে পরীক্ষা দিয়ে এসএসসি পাস করেছে। গণমাধ্যম এসব নিপীড়নের তথ্য আমাদের কাছে তুলে ধরছে, আবার এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতেও সাহায্য করছে। নারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য নানা জায়গায় সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। পূর্বের তুলনায় ইভটিজিংও অনেক কমেছে। বর্তমানে পেশাজীবী নারীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
----
ধর্ষকের বিচারের জন্য এখনও ১৫০ বছর পুরনো সেই আইনই রয়ে গেছে
—সারাহ হোসেন
ব্যারিস্টার
ধীরে ধীরে মহিলা আইনজীবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ব্যারিস্টারি এমন একটা পেশা যেখানে চেম্বার রাত ১০টা-১২টা পর্যন্তও খোলা রাখতে হয়। বর্তমান সামাজিক কাঠামোতে তা নারীদের জন্য খুব কঠিন এবং এত রাতে নিরাপত্তার অভাব সেখানে একটি বড় সমস্যা। প্রায়ই নারীদের ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে, কেননা নিরাপত্তার ভয়ে ও পুলিশ থেকে সেরকম সাড়া না পাওয়ায় অনেক সময় নারীরা মামলা করতেই ভয় পাচ্ছে। কখনও পারিবারিক চাপের ভয়ে তারা মামলা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ধর্ষকদের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও ১৫০ বছর পুরনো সেই আইনই রয়ে গেছে। আশপাশের বহু দেশে এই আইনের সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে এখনও হয়নি। তাই নারীদের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ও অপরাধীর উপযুক্ত সাজা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে খুব শিগগিরই আইনের সংস্কার করতে হবে এবং রিপোর্টের পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে।
---------
অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা আছে এখানে
—শাহনাজ বেগম
বিশেষ প্রতিনিধি দ্যা ইন্ডিপেনডেন্ট
কার্যনির্বাহী সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
১৯৮৭ কিংবা ৮৮ সাল থেকে প্রবাসী আনন্দবাজারে আমার লেখালেখি শুরু আর ১৯৯৩ সালে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেই । এক কথায় যদি সে সময় আর এই সময়ে গণমাধ্যমে মেয়েদের অবস্থা নিয়ে বলি তাহলে প্রথমত হলো তখন সাংবাদিকতা পেশায় ঢোকা সমস্যা ছিলো, আজকে অবস্থান তৈরি করায়। এখন চ্যালেঞ্জিং পেশায় মেয়েদের দেখার ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। কিন্তু সাংবাদিকতার মতো ২৪ ঘন্টার পেশায় মেয়েরা নানা পারিপার্শ্বিকতার কারণে পিছিয়ে পড়ছে। এই পেশায় প্রতিযোগিতা যেমন বেশি সুযোগ তেমন কম। অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা আছে এখানে। আবার মা হওয়ার ও সংসারের অনেক দায়িত্ব নিয়েও মেয়েরা সময়ের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে যোগ্য গড়ে তুলতে যথেষ্ট সময় দিতে পারে না। আর মেয়ে বলেই পুরুষ সহকর্মীদের সাথে পুরুষের মতো করে যোগাযোগ সৃষ্টি করে এগিয়ে যেতে পারে না।
-----------
নারীকে দক্ষ হতে হবে
—সঙ্গীতা আহমেদ
সভাপতি, উইমেন চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রি
আমি ছাত্র জীবন থেকে ব্যবসা করছি। সেটা ১৯৮৭-৮৮ সালের কথা। সেই সময় মেয়েরা বুটিক, সালোয়ারের দোকান আর বিউটি পার্লারের ব্যবসা করতো। আজ নারীর ব্যবসাক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হয়েছে। তারা নিজেরা যেমন স্বনির্ভর হচ্ছেন তেমনি অন্যের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পুরুষের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। কারণ সামাজিক বাধা আর নিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থের সংকট কাটানো নারীর জন্য অনেক কঠিন। আমরা উইমেন্স চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিস থেকে দেখেছি ভ্যানিটি ব্যাগ ভিত্তিক ব্যবসা করে। ব্যাগ থেকে টাকা বের করে মাল কিনে বিক্রি করে ব্যাগে টাকা ভরে এবং সেখান থেকেই শ্রমিকের মজুরি দেয়। যা কোনো মতেই ঠিক নয়। নারী উদ্যোক্তাদের পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হয়ে ব্যবসা করতে হবে। একসময় তাকে ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। আর ঋণের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে নারীকে দক্ষ হতে হবে।
---------------
মিডিয়ার নারীরা অনেক বেশি প্রতিবাদী
—সামিয়া রহমান
শিক্ষক, ঢা.বি, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মী
২০০০ সালে যখন আমি একুশে টেলিভিশনে কাজ শুরু করি তখন হাতে গোনা চার-পাঁচজন মেয়ে ছিল। আজ তেরো বছর পরে এমন অনেক হাউজ পাওয়া যাবে যেখানে নারী-পুরুষের সংখ্যা সমান। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সাংবাদিকতা নারীর পেশার ক্ষেত্রে একটি নতুন স্বপ্ন যোগ করেছে। একজন নারী যখন মাউথস্পীকার, ক্যামেরা আর একটি গাড়ি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বের হয় তখন তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। অন্যদেরকেও স্বপ্ন দেখাতে পারে। নানা ঝুঁকি পেরিয়ে যখন একজন নারী যে কোনো পেশায় প্রবেশ করে তখন তার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সকল ক্ষেত্রেই সমান। মিডিয়া কর্মীদেরকে মানুষ বেশি চেনে বলেই এখানে ঘটে যাওয় ঘটনাগুলো বেশি প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি দেখেছি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে ছাত্রী। নিরাপত্তাহীনতা সমাজের সবক্ষেত্রেই সমান। বরং মিডিয়ার নারীরা অনেক বেশি প্রতিবাদী। তাই নারীদেরকে আমি এই পেশায় স্বাগত জানাই।
--------------
নারীকে নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়
—শারমিন আমির
ইঞ্জিনিয়ার
একজন নারীকে নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। কর্মজীবী নারী হিসেবে বাহিরটাকে যেমনি সামলাতে হয় তেমনি সুনিপুণ হাতে হাল ধরতে হয় সংসারের। কেননা আমাদের সমাজের অধিকাংশ স্বামী ভাবেন, নারী মানে ঘর কন্যা ও স্বামী-সন্তান সামলানো। যে কারণে অনেক সময় বড় ধরনের কোন জটিলতার সম্মুখীন হয়ে একজন নারী চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। যা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক। এক্ষেত্রে দরকার পারিবারিকভাবে বিশেষ করে স্বামীর বন্ধুসুলভ আচরণ, অন্যথায় আমাদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এছাড়া একজন কর্মজীবী নারী তার উপার্জনের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকেন, পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকেন। কুসংস্কার, অজ্ঞতা, সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারছে না।
-------------
কখনও নিজের মতো করে একটু সময় পান না
—ডা. আফরোজা খানম রুমু
জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল, গাইনি এন্ড অবস
আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত প্রায় প্রতিটি পরিবার নারীদের স্বাস্থ্য, খাদ্য, চিকিত্সা এসব বিষয় নিয়ে খুবই উদাসীন। যে যতই বলুক নারী স্বাধীনতার কথা আমার ক্ষেত্র থেকে বলবো এদেশের নারীদের স্বাধীনতা ও সুস্থ থাকা এসব ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে। বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি কর্মজীবী নারীর অবস্থা বলা যায় খুবই সমস্যাগ্রস্ত। আমাদের দেশে বর্তমানে বহু সরকারি ও বেসরকারি চিকিত্সা কেন্দ্র আছে দরিদ্র ও অসহায় নারীর চিকিত্সার জন্য। কিন্তু দেখা যায় পরিবারের অবহেলার কারণে নারীটিকে সঠিক সময়ে চিকিত্সা করানো হয় না। নারীটির রোগের শেষ সময়ে চিকিত্সকের কাছে নিয়ে আসে এবং এই নিয়মটা পরিবারে নারীটির প্রতি খুবই অবিচার হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কামনা করি এই বিশ্বের সকল নারীর সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক সময়ে চিকিত্সা।
-------------
নারীর মেধা বা ইচ্ছাশক্তির কোন কমতি নেই
—সেলিনা আকতার
মানবাধিকার কর্মী
নারীদের অবস্থার উন্নতি করতে বা এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে ঘর থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে। আমাদের দেশের মেধাবী বা প্রতিষ্ঠিত যত নারী আছেন তাদেরকে খুব কাছ থেকে দেখলে জানা যাবে তাদের শীর্ষে থাকার সংগ্রামের কথা। সেই কথা ও সময়গুলো খুবই কঠিন ও দুঃসহ। নারীর মেধা বা ইচ্ছাশক্তির কোন কমতি নেই। কিন্তু তাদের প্রকাশের পথ খুবই কম। পুরুষের তুলনায় নারীদেরকে বেশি সংগ্রাম করতে হয়। যতই শ্লোগান বা প্রচার হোক নারী-পুরুষের বিভেদ, স্বাধীনতা, অধিকার তার সামান্য অংশ সত্য। নারী-পুরুষ পরস্পরকে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে আমার বলা সারাদেশে ধনী-দরিদ্র প্রতিটি সুস্থ ও প্রতিবন্ধী নারী প্রতিভা বিকাশ ও এগিয়ে যাওয়ার পথে তার পরিবারই যেন প্রথমে সাহায্য করে খুব আগ্রহ ও উদার চিন্তা নিয়ে।