চ্যানেলগুলো আমাদের বেশি ক্ষতি করছে

মামুনূর রশীদ। এ দেশের অন্যতম গুণী নাট্যজন। একাধারে তিনি একজন নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক। এ দেশের নাট্যান্দোলনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি আরণ্যক নাট্যদলেও নিয়মিত অভিনয় ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। গুণী এই ব্যক্তি নাটকসহ মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন... বর্তমান ব্যস্ততা তো অনেক কিছুই ছিল, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঠিক মতো কোনোটাই করতে পারছি না। সবকিছু আটকে আছে। আর এই অস্থিরতা ঠেকাতে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে যেই আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনের সঙ্গে আমিও যুক্ত আছি। এ অবস্থায় শুটিং ঠিকমতো করতে পারছেন? না শুটিং করতে পারছি না, আমার অনেকগুলো কাজ ছিল, কোনোটাই করতে পারছি না। অনেক ক্ষতিও হয়ে গেছে। তবে এ নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণে যদি আমার কাজ বিঘ্নিত হয়, সাময়িক ক্ষতি হয় তাতে কিছু আসে যায় না। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারলে এটাই তো অনেক বড় পাওয়া। আপনি তো প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, সেই জায়গা থেকে এখনকার নাটক ইন্ডাস্ট্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইছি। এখনকার নাটক ইন্ডাস্ট্রির আগে বলতে চাই যে রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমাদের সবার ক্ষতি হচ্ছে। আবার আমরা সবাই এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এর জন্য সাময়িক ক্ষতি আমরা সবাই মেনে নিচ্ছি। আর অন্য দিক দিয়ে বলব, আমাদের নাটক ইন্ডাস্ট্রি মোটেও ভালো নেই। চ্যানেলগুলো ঠিকমতো টাকা দিতে পারছে না। প্রডিউসারসহ অভিনয়শিল্পীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের এই অস্থিরতায় নাটক ইন্ডাস্ট্রির যত ক্ষতি হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে চ্যানেলগুলো। তাদের একটা প্রফেশনাল জায়গায় আসা উচিত। এভাবে চলতে পারে না। আপনার নাট্য সংগঠন আরণ্যক নাট্যদলের ৪০ বছর পূর্তি হলো। এই ৪০ বছর পূর্তি ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলুন। হ্যাঁ। এটা অনেক আনন্দ ও সাফল্যের কথা যে, আমরা একে একে ৪০টি বছর সুন্দরভাবে আরণ্যককে নিয়ে চলেছি। এই ৪০ বছরে অনেক কাজ করেছি। ভবিষ্যতে আরও করব। যেমন ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা বিশাল আয়োজন করেছিলাম, সেদিন আমরা ৬টি নাটক অভিনয় করেছি। হংকং থেকে একটি নাটক করতে এসেছে। ৩টি সেমিনার করেছি। গত ২ মার্চ ‘কবর’ নাটকটি মঞ্চস্থ হলো। আমাদের এই আরণ্যক সামনে আরও অনেক কিছু উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। শিল্পীদের শিডিউল ফাঁসানো, সিনিয়র শিল্পীদের অসম্মান করাসহ একাধিক নালিশের ফয়সালার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আপনারা, কিন্তু এর কি ভালো ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে? একদিনে তো আর ফলাফল দেখা যায় না, কিছু কিছু দেখা যায়। নওশীন, হিল্লোল, সারিকাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তারা এসে সবার নিকট ক্ষমা চেয়েছে, ভুল স্বীকার করেছে। যাদের সঙ্গে করেছিল তাদের সঙ্গে বুঝাপড়া হয়েছে। ৯০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ ছিল মিডিয়াতে, সেই দিনগুলোতে তাদের কাজগুলো অনেকটা বন্ধ ছিল, অনেক শিডিউল ক্যান্সেল করতে বাধ্য হয়েছে তারা। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ যদি কেউ করে তাকেও ভবিষ্যতে শাস্তি পেতে হবে। আমরা এই বিষয়গুলোতে খুবই মনোযোগী। বরং তাদের এই ঘটনার পর থেকে অনেকেই ডিসিপ্লিন মেনে চলছে, ভবিষ্যতেও চলবে। ‘ডোরেমন’ কার্টুনটির জন্য ডিজনি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু এর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হিসেবে মানুষের দাবি হচ্ছে স্টার প্লাস, জলসাসহ একাধিক চ্যানেল। এবং এগুলো দীর্ঘদিন ধরে আপনারাও বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিনের এই দাবি ফেলে রেখে ডিজনি বন্ধ হলো, এর কারণটা একটু বলুন। আসলে এই প্রশ্নটা সরকারকে করাটা উচিত, চ্যানেল বন্ধ করার মালিক আমরা না। তবে হ্যাঁ, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি চালিয়ে আসছি যে, আমাদের চ্যানেল যেহেতু ভারতে দেখানো হচ্ছে না তাহলে ভারতীয় চ্যানেল কেন আমাদের এখানে চলবে। এবং ভারতের কিছু চ্যানেলের জন্য আমাদের ইন্ডাস্ট্রিসহ সমাজের ক্ষতি হচ্ছে। তবে এখন ভারতেও আমাদের কিছু কিছু চ্যানেল প্রচার হচ্ছে। আর প্রযুক্তিগত ব্যবহারের কারণে কেবল অপারেটরের সাহায্য ছাড়া অনলাইনেও ভারতের মানুষ আমাদের চ্যানেল দেখছে।