ছায়ানটে নালন্দার শিশুদের দুইদিনের ওয়াহিদুল হক স্মরণ উত্সব

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘ঘাসের মত বাঁচো। বড় বৃক্ষ হওয়ার দরকার নেই, সবাইকে নিয়ে সবার সঙ্গে ঘাস হয়ে থাকো’—ওয়াহিদুল হক সবসময় বলতেন এ কথা। ছায়ানট ভবনে ঢুকে মনে হলো—ওয়াহিদুল হক ঘাস হয়ে বেঁচে রয়েছেন শিশুদের মনে। কোথাও তার কথা বলা হচ্ছে না তবে তার ভাবনা বিরাজ করছে সবার মাঝে। সবাই গাইছে মানবিক হয়ে উঠবার গান। তাঁর ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছায়ানট ভবনে শুরু হয়েছে ‘অভয় বাজে হূদয় মাঝে’ শীর্ষক দুইদিনের অনুষ্ঠানমালা। নালন্দা বিদ্যায়তনের শিশুদের আয়োজনে শুরু হয়েছে চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। রয়েছে সংগীত আয়োজনসহ নানা অনুষ্ঠান। ওয়াহিদুল হকের জন্মদিন ছিল গত ১৬ মার্চ। জন্মদিন স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নালন্দা।

ওয়াহিদুল হক বাঙালি হয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য আজীবন মানুষ গড়েছেন, তাদের সংঘবদ্ধ করেছেন, পথ দেখিয়েছেন সংস্কৃতির। ছায়ানটসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলায় অগ্রগণ্য ব্যক্তি তিনি। সারা দেশে রবীন্দ্র সংগীত চর্চায় মানুষকে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান চিরস্মরণীয়। নালন্দার শিশুরা গানে গানে, নানা আয়োজনে স্মরণ করছে সংস্কৃতির পথ নির্মাণের এই অগ্রপথিককে। এবারের উত্সব ভাবনা ‘শিক্ষা ও মানবিকতা’।

গতকাল শনিবার বিকালে উত্সবের উদ্বোধন করেন প্রাবন্ধিক লেখক মফিদুল হক। এরপর শুরু হয় নালন্দার শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরু হয় শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর ছিল মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন। সবগুলোই বৃন্দ পরিবেশনা। মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা নৃত্যের সঙ্গে গেয়ে শোনায় ‘এমন মানব জনম’, কিশলয়ের শিশুরা ‘সাতটি রঙের মাঝে’ গানের সঙ্গে পরিবেশন করে নৃত্য। এছাড়া, ছিল ব্রতচারী ছড়া, জারি নৃত্য, গীতরঙ্গ প্রযোজনা ‘স্বাধীনতার অভিযাত্রা’ প্রভৃতি। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। এদিকে, ছায়ানট ভবনের দেয়ালজুড়ে শুরু হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী। উত্সবের অংশ হিসেবে আজ রবিবারও রয়েছে সংগীত অনুষ্ঠান। শুরু হবে বিকাল চারটা পর্যন্ত।