শহরের চেয়ে গ্রামেই ব্যাংকের শাখা বেশি

গ্রামের চেয়ে শহরের শাখাগুলো বেশি ব্যবসা সফল। এ জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শহরে শাখা খুলতে বেশি আগ্রহী। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে শহরের চেয়ে গ্রামে ব্যাংকের বেশি শাখা রয়েছে। গ্রামীণ জনগণকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসার জন্য শহরে ও গ্রামে সমান সংখ্যক শাখা খোলার বাধ্যবাধকতার কারণে এ ব্যতিক্রম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত জানুয়ারি মাস শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৪৫টি। এর মধ্যে গ্রামের শাখার সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮০টি এবং শহরের শাখার সংখ্যা তিন হাজার ৫৬৫টি। অর্থাত্ শহরের চেয়ে গ্রামে ৬৪৫টি বেশি শাখা রয়েছে। গ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশি শাখা থাকার কারণে এ সংখ্যা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর গ্রামে কোন শাখা নেই। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত চার ব্যাংকের এক হাজার ৪৫৬টি শাখার মধ্যে শহরে ১৭৬টি এবং গ্রামে এক হাজার ২৮০টি শাখা রয়েছে। বেসরকারি ৩০টি ব্যাংকের তিন হাজার ৩৪১টি শাখার মধ্যে শহরে দুই হাজার ৭০টি এবং গ্রামে এক হাজার ২৭১টি শাখা রয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংকের ৬৫টি শাখার সবগুলোই শহরে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে। এদিকে গত ২০১২ সালে দেশের কার্যরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৩৬৫টি শাখা খোলার অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদিত প্রায় সকল শাখাই খুলেছে এসব ব্যাংক। তবে আটটি ব্যাংক তাদের ১৫টি শাখা খুলতে পারেনি। গত বছরে ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার, এনসিসি, আইএফআইসি, স্ট্যান্ডার্ড, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল এবং ওয়ান ব্যাংক অনুমোদিত সবগুলো শাখা খুলতে পারেনি। জানা গেছে, ব্যাংক এশিয়ার না খোলা ৫টি শাখার মধ্যে শহরে ৪টি ও গ্রামে একটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৩টির মধ্যে দুটি শহরে ও একটি গ্রামে, এনসিসি ব্যাংক শহর ও গ্রামে একটি করে, আইএফআইসি ব্যাংক গ্রামে একটি শাখা খুলতে পারেনি। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক গ্রামে একটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক গ্রামে একটি, ন্যাশনাল ব্যাংক একটি শহরে এবং ওয়ান ব্যাংক শহরে একটি শাখ খুলতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি নতুন শাখা খোলার অনুমতি পায় ব্যাংকগুলো। এ সময় মোট ৪৭১টি শাখা খোলা হয়। এছাড়া ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক ২০০৯ সালে ৩০১টি, ২০১১ সালে ৩০৩টি এবং ২০১২ সালে ৩৫০টি শাখা খুলেছে। জানা গেছে, শহর ও গ্রামে সমান হারে শাখা খোলার জন্য ২০১১ সালের শেষদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভাগ ও জেলা শহরের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকার শাখাকে শহরের শাখা এবং এর বাইরের শাখাগুলো গ্রামের শাখা হিসাবে গণ্য করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।