বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখলেন স্পিনাররা
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৩
একটা সময় ছিল, মাতারার এই স্টেডিয়াম থেকেই শ্রীলঙ্কা সফরকারী দলগুলোর সফর শুরু হত। সেই ১৯৭৩ সালে যাত্রা শুরুর পর এই উয়ানওয়াত্তে স্টেডিয়ামেই প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে সফর শুরু করত বড় বড় দলগুলো। কিন্তু ২০০৪ সালের সুনামির পর থেকে ক্রিকেটীয় অর্থে অনেকটা পরিত্যক্তই হয়ে পড়ে ছিল এই ভেন্যু। অবশেষে কাল বাংলাদেশের সফর শুরুর প্রস্তুতি ম্যাচের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ ক্রিকেটবিহীন অধ্যায়ের শেষ হল মাতারায়। আর এই নতুন সূচনার যুগে বাংলাদেশের সফর সূচনাটা হল মিশ্র অভিজ্ঞতার। শ্রীলঙ্কা ডেভলপমেন্ট এমার্জিং দলের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশি বাঁ হাতি স্পিনাররা ভালো শুরু করেছিলেন। কিন্তু খিতুরুয়ান ভিতাঙ্গের দুরন্ত এক ইনিংসে বেশ ভালোভাবেই খেলায় ফিরে এসেছে লঙ্কান দলটি। বাংলাদেশি বাঁ হাতি স্পিনার সোহাগ গাজীর ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের পরও লঙ্কান দলটি দিনশেষে ৯ উইকেটে ৩৮৯ রান তুলে ফেলেছে।
সুনামির পর আবার নতুন করে গত প্রায় এক দশক ধরে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে মাতারাকে। স্টেডিয়ামটি বেশ আগেই খেলার উপযোগী হয়ে গেছে। গত বছর কয়েক ধরে এখানে মূলত মাতারার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্কুল ক্রিকেটের খেলা আয়োজন করা হয়। সেই খেলা বন্ধ রেখে এখন বাংলাদেশের অনুশীলন ম্যাচ হচ্ছে। সে অনুশীলনের শুরুটা মন্দ হয়নি। যদিও এই ম্যাচে খেলার কথা ছিল কুমার সাঙ্গাকারার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় বাদ পড়া ক্রিকেটারদের অংশ হিসেবে তিনিও এ ম্যাচ খেলতে নামেননি। ফলে টসে হেরে বাংলাদেশের বোলাররা সামনে পেয়েছিল একেবারেই অনভিজ্ঞ একটা ব্যাটিং লাইনআপ। সুযোগটাও ভালোই নিয়েছিলেন বাংলাদেশি বাঁহাতি স্পিনাররা। শ্রীলঙ্কান দলটি উদ্বোধনী চুটিতে ৫২ রান তুলে ফেলার পরও ১০৪ রানে হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। এই চার উইকেটের মধ্যে ইলিয়াস সানি ও রুবেল একটি করে এবং সোহাগ ২টি উইকেট তুলে নেন। তবে এরপরই দারুণ একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ভিতাঙ্গে ও আশান প্রিয়াঞ্জন জুটি। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন ১৫৯ রান যোগ করে দলকে সেই ৪ উইকেটেই ২৬৩ রানে নিয়ে যান। এরপরই সোহাগ তার ভেল্কিটা দেখালে শেষ সেশনে দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। পরের ৫৭ রানের মধ্যে আবার ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কান দলটা। এর মধ্যে আরো ৩ উইকেট নিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে ফেলেন সোহাগ। দিনের একেবারে শেষ ওভারের পঞ্চম বলে লঙ্কানদের নবম উইকেট তুলে নেন সানি; এ পর্যন্ত ২ উইকেটের মালিক তিনি। ১১৭ বলে ৮৩ রান করে সোহাগেরই শিকার হয়ে ফিরে আসেন প্রিয়াঞ্জন। তবে আরেক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভিতাঙ্গে। ১৫৭ বল খেলে ১৫৭ রান করেই অপরাজিত আছেন তিনি।
অনুশীলন ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য মূল ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখা। সে পরীক্ষায় দুই বাঁ হাতি স্পিনার সোহাগ ও সানি সফল। কিন্তু পেসাররা যথারীতি শুরুতেই ক্লান্ত। রুবেল এক উইকেট পেলেও তেমনভাবে দাঁত বসাতে পারেননি। তার নতুন বলের সঙ্গী, আরেক পেসার আবুল হোসেনকে যথারীতি ৬ ওভারের বেশি সারাদিনে বল করানোর ভরসাই পাননি অধিনায়ক!