লোডশেডিং ছাড়াই সেচ পাম্পে ৮ ঘন্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৯
আসন্ন বোরো মৌসুমে প্রয়োজন ছাড়া সেচ এলাকায় বিদ্যুতের লোড শেড করা হবে না। রাত ১১টা থেকে একটানা আট ঘন্টা সেচ পাম্পগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অপরদিকে ৩৪টি কোম্পানিকে বিদ্যুত্ উত্পাদনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। দেশে কবে থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। দু’দিন বিরতির পর গতকাল রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক সংসদকে উক্ত তথ্য জানান। স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে চলতি অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবস শুরু হয়।
আসন্ন বোরো মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন কাজী কেরামত আলী। জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো যথাসম্ভব চালু রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। সিস্টেমের প্রয়োজন ছাড়া সেচ এলাকায় লোড শেড করা হবে না। রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেচ পাম্পগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। শিল্পকারখানার হলিডে স্ট্যাগরিং ও প্রয়োজনে দিনের বেলায় শহরাঞ্চলে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হবে। শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ভাড়ায় ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এদের উত্পাদন ক্ষমতা হচ্ছে দুই হাজার ১৪৭ দশমিক ৯১১ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ৩২টি কোম্পানি বিদ্যুত্ উত্পাদনে গেছে। বেগম ফরদুিন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান বছরে বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছয় হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ধরা হয়েছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পুরনো বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করার কাজ চলছে। এছাড়া তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি করাসহ লোড ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত চার বছরে বিদ্যুত্ সাশ্রয়মূলক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এক কোটি পাঁচ লাখ বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী বাল্ব (সিএফএল) বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
শওকত মোমেন শাহজাহানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে ২০০৬-২০০৭ থেকে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৪৮২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে গত অর্থ বছর পর্যন্ত ভর্তুকির পরিমাণ হচ্ছে ১৩ হাজার ২৫৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর চলতি অর্থ বছরের দুই মাস ১২ দিনে ভর্তুকি দেয়া হয়েছে দুই হাজার ২২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থ বছরে ৭০টি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অধীনে নির্মিত বিদ্যুত্ লাইনের পরিমাণ হচ্ছে দুই হাজার ৫৯১ কিলোমিটার। সংযোগকৃত গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখ ৯৬ হাজার ৮৪ জন।
গ্যাস পরিস্থিতি : পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে গ্যাস ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৫টি। এরমধ্যে ১৯টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। বেগম সালমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের ঘাটতির পরিমাণ ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা হচ্ছে দিনে দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। উত্পাদন হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। বেগম তহুরা আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে চারটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) দেশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োজিত রয়েছে। এগুলো হলো স্যান্টোস, শেভরন, তাল্লো ও কনোকোফিলিপস। অপু উকিলের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গ্যাস উত্পাদন বাড়ানোর কার্যক্রম পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। তবে কবে নাগাদ নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে তা এ মুহূর্তে স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে হলে আগামীতে এলএনজি আমদানিসহ গ্যাসের উত্পাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।