হরতালের প্রথম দিন

সহিংসতায় নিহত ২৪

জামায়াতে ইসলামীর ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে গতকাল বগুড়া, জয়পুরহাট, রাজশাহী ও ঝিনাইদহে ব্যাপক সহিংসতায় পুলিশ ও মহিলাসহ কমপক্ষে ২৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে পুলিশসহ দুই শতাধিক লোক। নিহতদের মধ্যে রয়েছে বগুড়ায় ১২ জন, জয়পুরহাটে ৬ জন, রাজশাহীতে ২ জন, সাতক্ষীরায় ২ জন, শ্রীপুর এবং ঝিনাইদহে ১ জন করে। পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ, দোকানপাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবির কর্মীদের বেপরোয়া হামলায় অনেক স্থানে নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৪৪ ধারার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বগুড়া জেলার শাজাহানপুরে বেলা ১২টায় সেনা মোতায়েন করা হলেও বিকাল ৫টায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবিরের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে গতকাল সংঘর্ষে বগুড়া শহর, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জে মহিলাসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন আরও ৩৫ জন। ভোর সাড়ে ৪টা থেকে বগুড়া শহর ও পাঁচটি উপজেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। হামলাকারীরা বিভিন্ন স্থাপনা, প্রতিষ্ঠান, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, উপজেলা পরিষদ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কার্যালয় এবং নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। এসব পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ব্যাপক টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ এবং গুলিবর্ষণ করে। পরে বগুড়া পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এছাড়া বগুড়া জেলার শাজাহানপুরে বেলা ১২টায় সেনা মোতায়েন করা হলেও বিকাল ৫টায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা যাচ্ছে এই প্রচারণা চালিয়ে মাইকে জনতাকে রাস্তায় নামতে বলে জামায়াত নেতা-কর্মীরা। ফলে সকালের আলো ফোটার আগেই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে লাটিসোঁটা নিয়ে মিছিলসহ বগুড়া শহর অভিমুখে রওনা হয় জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। তারা সড়কের পাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করে। এদিকে চারদিক থেকে জামায়াত-শিবিরের মিছিল শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা অভিমুখে আসতে চাইলে পুলিশ ও র্যাবসহ আর্মড পুলিশ সদস্যরা শহরের বড়গোলা, শেরপুর রোড ও স্টেশন রোডে প্রতিরোধ করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ককটেল নিক্ষেপ এবং ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের বাধার মুখে টিকতে না পেরে পিছু হটে হরতাল সমর্থকরা। কিন্তু আবার দফায় দফায় তারা জোটবদ্ধভাবে হামলা করতে আসে পুলিশ বাহিনীকে। এসময় প্রতিটি পয়েন্টেই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবির কর্মীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পৌর এলাকায় তাণ্ডব চালায় । স্টেশন রোডে অবস্থানকারী জামায়াত-শিবির কর্মীরা কামারগাড়ি এলাকায় গিয়ে রেল লাইন উপড়ে ফেলে। ফলে সকাল থেকে বগুড়ার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় ওই সড়কে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিআরটিসি পরিচালক শুভাশীষ পোদ্দার লিটনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় একই এলাকার কমপক্ষে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছোঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাত এক যুবক (২০) নিহত হয় এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন ও ভর্তির পর আরও ১ জন মারা যান। হাসপাতালে ভর্তির পর নিহত দু’জন হলেন- শহরের জয়পুরপাড়ার আফতাব হোসেনের ছেলে বাদল (১৮) ও পালশা গ্রামের আলম শেখের ছেলে রং মিস্ত্রি টিটু মিয়া (২০)। একই সময়ে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সেখানে তারা ব্যাপক লুটপাট চালায়। জামায়াত নেতা-কর্মীরা সেখান থেকে সম্মিলিতভাবে শাজাহানপুর থানায় হামলা চালাতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মহিলাসহ ৩ জন নিহত ও অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে আরও এক মহিলা মারা যান। নিহতরা হলেন- সাজাপুর পশ্চিম পাড়ার মেহেরাজ উদ্দিনের স্ত্রী আরজিনা বেগম (৪৫), ডোমনপুকুর মণ্ডলপাড়ার তোতা মিয়ার স্ত্রী মনজিলা বেগম (৪৮), ডোমনপুকুরের রকিব উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান (৬০) ও ডোমনপুকুর নতুনপাড়ার মনছের আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম (৪৫)। এ ঘটনার পর সেখানে থানার নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা সদস্যরা অবস্থান নেয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এসময় সেখানে সংঘর্ষে মুরাদপুর গ্রামের আলহাজ্ব দবির উদ্দিনের ছেলে দুলু মিয়া (৩৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সেখানেও অন্তত ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলার পার আঁচলাই গ্রামের লুত্ফর রহমানের ছেলে জিয়াউল ইসলাম (৩০), বগুড়া সদর উপজেলার রায় মাঝিড়া লয়াপাড়ার মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে শিবির কর্মী বাবু মিয়া (১৮) ও গাবতলী উপজেলার দেওনাই শাহাপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে আব্দুস শহীদ (২০) মারা যায়। ফজরের নামাজের পর ৬টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মী ও সমর্থকদের একটি গ্রুপ শহরের কাটনারপাড়ায় বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের বাসভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময় উপশহরে হামলা করা হয় বগুড়ার সাবেক সাংসদ ও দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক আমান উল্লাহ খানের বাসভবনে। এর কিছু পরই বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীরা শহরের কলোনী এলাকায় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের বাসভবনে হামলা ভাংচুর চালায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরতলীর গোদাড়পাড়া ছয়পুকুরিয়া এলাকায় ভারী শিল্প কারখানার জন্য নির্ধারিত স্থানে বগুড়া চেম্বার আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চত্বরে হামলা চালানো হয়। এছাড়াও দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান ও কমিউনিস্ট পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল বাশারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবার সকাল ৭টা থেকেই বগুড়া পৌর এলাকায় অনির্ধারিত সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বগুড়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘুমন্ত মানুষ ও পুলিশের ওপরে হামলা চালিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। এসময় জানমালের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা উচ্ছৃংখলতা ঠেকাতে ফাঁকাগুলি ও টিয়ারশেল ছোঁড়ে। তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের মোট সংখ্যা কত তা তিনি জানাতে পারেননি। বেলা ৩টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পুরো শহরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাটে জামায়াত- শিবিরের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৬ জন নিহত ও ২৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গুলিতে নিহতরা হলেন পাঁচবিবি উপজেলার আর্জিঅনন্তপুর গ্রামের রজিব আলীর পুত্র ফরমান আলী (৩০) ,কাশরা গোবিন্দপুর গ্রামের মফিজ উদ্দীনের পুত্র মহিদুল ইসলাম (৩২) ও বাশখুর গ্রামের মোজাহারুল ইসলামের পুত্র নাসির উদ্দীন (১৬), পাঁচবিবির রহমতপুর গ্রামের মজনু মিঞা (২৫)। সলাইপুর পুকুরপাড় গুচ্ছগ্রামের আব্দুল হাকিম (৩০) এবং ধরনজি গ্রামের হেসাব উদ্দিন(৩২)। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতাল চলাকালে জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের হিচমী এলাকায় এবং পাঁচবিবি উপজেলার ৩ মাথা ও ৫ মাথা এলাকায় পুলিশের সাথে জামায়াত- শিবিরের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে জামায়াত-শিবিরের বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী ও মাদ্রাসা ছাত্র হিচমীতে গাছের গুঁড়ি, বিদ্যুতের খাম্বা ফেলে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামায়াত-শিবিরের ৬-৭ হাজার লোকজন জঙ্গি মিছিল নিয়ে শহরের দিকে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত পুলিশের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জয়পুরহাট পুলিশ সুপারসহ অন্য পুলিশদের জামায়াত-শিবির অবরুদ্ধ করে ফেলে। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ৩ বর্ডারগার্ড (বিজিবি) জয়পুরহাট ক্যাম্পের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খসরু ইসলাম সাব্বিরের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব-পুলিশ যৌথভাবে গুলি, টিয়ারশেল ছুঁড়ে হরতাল সর্মথকদের ছত্রভঙ্গ করে তাদের মুক্ত করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় দুপুরের দিকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয় পাঁচবিবির রহমতপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ (৪০), সদর উপজেলার আবু বক্কর (৩৫) এবং কেন্দুল গ্রামের ছানোয়ার (২৯)। অপরদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ৮ হাজার জামায়াত- শিবির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস, স্মৃতিসৌধসহ বেশকিছু দোকান-পাট ও বাসাবাড়ীতে হামলা করে ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের মিছিলের একটি অংশ থানার সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে থানার ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুলিশ কোয়ার্টারের পিছনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দরজা-জানালা ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে ২০ জন জামায়াত- শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে বাশখুর গ্রামের মোজাহারুল ইসলামের পুত্র নাসির উদ্দীন (১৬) সদর হাসপাতালে এবং মহিপুর হাসপাতালে পাঁচবিবি উপজেলার আর্জিঅনন্তপুর গ্রামের রজিব আলীর পুত্র ফরমান আলী (৩০), কাশরা গোবিন্দপুর গ্রামের মফিজ উদ্দীনের পুত্র মহিদুল ইসলাম (৩২) মারা যায়। পাঁচবিবি উপজেলার মহিপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খুরশিদ আলম জানান, তার হাসপাতালে নেয়ার আগেই গুলিবিদ্ধ ২জন মারা যায়। চিকিত্সাধীন রয়েছে ১২ জন। জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. সাইদুর রহমান জানান, জয়পুরহাট হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ চিকিত্সাধীন নাসির উদ্দীন (১৬) মারা যায়। জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজশাহী অফিস জানায়, গতকাল সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের থানার মোড়ে পুলিশ ও বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো মহিষালবাড়ির মসজিদের মুয়াজ্জিন, জামায়াতের রুকন মুজাহিদ হোসেন (৫০) এবং ভগবন্তপুর হাটপাড়ার আয়েশা সাবের মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র, শিবিরকর্মী রফিকুল ইসলাম (১৮)। মুজাহিদ মহিষালবাড়ির মৃত সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ও রফিকুল হাটপাড়ার মোস্তফার ছেলে। এছাড়া গুলিতে বাকপ্রতিবন্ধী আলীম (৩৫), গোদাগাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট শোয়াইবুর রহমান (৪২), বিদিরপুরের ইসমাইল (১৭), রামনগরের মোহাম্মদ আলী (২২), নারায়ণপুরের আলমগীর (২৫), আতাহার গ্রামের রুবেল (২৭), হরিশংকরপুরের আশরাফুল (৩০), রামনগরের বকুল (৩৫) ও বুজরুকপাড়ার বাবু (১৮) আহত হয়। তাদের প্রথমে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহীর অজ্ঞাত স্থানে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত পুলিশ লাইনের ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় পুলিশ বাদী মামলা হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জামায়াতের ডাকা সকাল- সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের সাথে বিজিবির সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত ও ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবির ৩ জন সদস্য আহত হয়েছে। জামায়াত-শিবির কর্মীরা এ সময় বিজিবির ২টি গাড়ি ভাংচুর করে এবং আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। তারা একজন ফটো সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এদিকে, সাতক্ষীরা জেলা শহরের নিউ মার্কেট মোড়ে বিএনপি সমর্থকরা ২টি পিকআপ ভাংচুর করেছে। শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, রবিবার সকালে জামায়াতের আহবানে হরতাল চলাকালে শ্রীপুরের ঢাকা মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় পিকেটিংকালে উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক (২২) ট্রাকের চাপায় মারা যান। জানা যায়, রবিবার সকাল ৬টার দিকে আ: রাজ্জাকের নেতৃত্বে একদল শিবির কর্মী জৈনাবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর পিকেটিং করে। এ সময় পিকেটাররা রাস্তার পাশে অবস্থানকালে ঢাকাগামী একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় ট্রাকের চাপায় আ: রাজ্জাক গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, গতকাল রবিবার ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে জামায়াত শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষকালে ওমর ফারুক (৫০ ) নামে এক পুলিশকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জামায়াত-শিবির। আহত হয়েছে ১০ পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন। আহত ৬ পুলিশকে হরিণাকুন্ডু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরিণাকুন্ডু শহরে পুলিশ বিজিবি টহল দিচ্ছে। সংঘর্ষে আহত হরিণাকুন্ডু হাসপাতালে চিকিত্সাধীন এএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ১১ টার দিকে প্রায় ৬ হাজার জামায়াত-শিবির লাঠিসোটা, দা, কুড়াল ও ইট-পাটকেল নিয়ে উপজেলা পরিষদে হামলা চালায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের পিছনে কনস্টেবল ওমর ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করে জামায়াত শিবির। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির কেয়ারটেকার জাহিদ মোল্যা (৩০) কে আটক করেছে। তাকে শনিবার রাতে আটক করা হয়। আটক জাহিদকে রবিবার ফরিদপুরের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আদালত রিমান্ডের শুনানির জন্য আগামী ৬ মার্চ সোমবার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের এ.টি.এম বুথ ভাংচুর করেছে হরতাল বিরোধীরা। রবিবার বেলা ১১ টায় হরতাল বিরোধী মিছিল থেকে শহরের মাদ্রাসা রোডের ইসলামী ব্যাংকে ঢুকে বিক্ষুব্ধরা ব্যাংকের এটিএম বুথে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা এ.টি.এম বুথের প্রহরী পলাশ উকিলকে (৩৫) বেদম মারপিট করে। আতংকে শহরের মাদ্রাসা রোডের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবিরের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথমদিন রবিবার কুড়িগ্রামের রাস্তা-ঘাট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের দখলে। জামায়াত-শিবিরের কোন নেতাকর্মী বা পিকেটারকে দেখা যায়নি কোথাও। কোন প্রকার অপ্রীতিকর কোন ঘটনাও ঘটেনি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল না করলেও ভ্যান, পিকআপ, রিক্শা, সাইকেল, মোটর সাইকেল, টেম্পু, ব্যাটারী চালিত অটোর চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবিরের ডাকা গতকাল রবিবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হয়েছে। তবে ভাদুঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টায়ারে আগুন দেয়া ছাড়া আর কোথাও পিকেটিং করার খবর পাওয়া যায়নি। সকালে দোকানপাট বন্ধ থাকলে সময় বাড়ার সাথে সাথে দোকানপাট খুলতে শুরু করে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৮ জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ ও শহীদ মিনার ভাংচুরের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা যুবলীগ। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেলওয়ে সেতুতে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার ইমামবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে এ ঘটনা ঘটে। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিমউদা বাজারে এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করায় শিবিরের ২ কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় গোপলার বাজার ফাঁড়ি পুলিশ তাদের আটক করে। বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল রবিবার সকালে আমতলী থানা পুলিশ সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আবদুল খালেক নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে গতরাতে মিজানুর রহমান নামের আরেক শিবির কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। নাশকতা ঘটানোর আশংকায় সন্দেহজনকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জামায়াতের ডাকা দু’দিনের হরতালের প্রথম দিন গতকাল রবিবার ঢাকার সাভারে বিক্ষিপ্ত পিকেটিংসহ ঢিলেঢালা ভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল ৬টায় সাভারের জালেশ্বর এবং জোড়পুল এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জামায়াত কর্মীরা হরতালের সর্মথনে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করে। এসময় তারা বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাংচুর চালায়। এছাড়া আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় মালবাহী একটি ট্রাকে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এদিকে শিমুলতলা এলাকা থেকে পেট্রোলসহ ১০ জনকে আটক করে সাভার থানা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রবিবার বেলা পৌনে ১২টায় ফতুল্লার পোস্ট অফিসের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জে রবিবার সকালে হরতাল চলাকালে মিছিল করেছে শহর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে উপস্থিত ছিলেন শাখার সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। জামায়াত ও শিবিরের ডাকা হরতালের সময়ে প্রথমবারের মত মাঠে নামলেন আইভী। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় গত শনি ও রবিবার দুইদিনে ১২ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জে ৪ জন, সাঘাটায় ৬ জন ও সাদুল্লাপুরে ২ জন। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় রেললাইনের একটি ব্রীজে আগুন ও লাইনের স্লিপার উত্পাটন করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে এ ঘটনার পর কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে গতকাল রবিবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মীরা লাইন মেরামত করে রবিবার দুপুরে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করেছে। রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লায় শনিবার রাতের আঁধারে জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ব্রীজে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিলে খবর পেয়ে রেলওয়েকর্মীরা তাত্ক্ষণিকভাবে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা শহরের দক্ষিণ তেমুহনী নতুন পানি পাম্পের পাশে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন রতন সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছে। আহত রতনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ দিকে হরতাল চলাকালে শহরে যুবলীগ নেতাকর্মীরা সিএনজি ও মোটর সাইকেল যোগে হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করছে। শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের ইটেরপুল,ও ঢাকা- রামগতি মহাসড়কের দক্ষিণ তেমুহনীর অদূরে সমসেরাবাদ, কমলনগরের হাজির হাটসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে হরতাল সমর্থনকারীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবিরের দেয়া আগুনে কানসাটে অবস্থিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্ল¬¬ী বিদ্যুত্ সমিতির সদর দপ্তর ভস্মীভূত হওয়ার পর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক তিন দিন অন্ধকারে জীবন-যাপন করছেন। জনমনে আতংক আর রাস্তায় ব্যারিকেড থাকায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। ফলে পচনশীল পণ্য পচে নষ্ট হচ্ছে। আটকা পড়েছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক। সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ও জীবননগর সংবাদদাতা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার সময় স্থানীয় হরতালকারী নেতাকর্মীরা চূয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর-কালিগঞ্জ সড়কের হাসাগহ বাজার নামক স্থানে বেরিকেট সৃষ্টি করে সকল প্রকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ হ্যাণ্ড মাইকে বেরিকেট সৃষ্টিকারীদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের নির্দেশ জারি করলে হরতালকারীরা বেরিকেট তুলে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় বান্দরবানে দু’দিন ধরে কোনো পত্রিকা পৌঁছায়নি। রবিবারও ঢাকা-চট্টগ্রামের জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকগুলো কেরানীহাট আটকে ছিল। এদিকে বান্দরবানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে। চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, হরতালের প্রথম প্রহরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা, দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা তীরচর-ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এসময় জামায়াত-শিবিরের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং পুলিশের রাবার বুলেটে এক নারী ও এক শিবির কর্মী আহত হয়। এসময় পুলিশ সদস্যের উপর হামলা চালানোর জন্য চান্দিনার সব্দলপুর গ্রামের একটি মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেয়া হয় রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির রাজাপুর থানা পুলিশ গতকাল রবিবার ভোরে ২ জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়ার মোজাম্মেল হোসেন ও শুক্তাগড়ের গোপালপুর গ্রামের সাইদুর রহমান মুন্সী। তারা দু’জনই জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে তিনি জানান। লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ও গোদড়া গ্রামে রবিবার চতুর্থ দিনের মত ১৪৪ ধারা বলবত্ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবত্ থাকবে বলে জানান, লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহমান। জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, জলঢাকায় কেন্দ্র ঘোষিত ১৪ দলীয় জোট ও জামায়াত-শিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত শনিবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেন। উপজেলা জামায়াত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ এনে প্রায় ৫’শ জনকে আসামি করে পুলিশ শনিবার জলঢাকা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অভিযুক্ত সকল জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে জামায়াতের ডাকা দু’নির হরতালের প্রথম দিন বরগুনায় পালিত হচ্ছে না। সকাল থেকে শহরের দোকানপাট খোলা ছিল। রিকশা, গাড়ি চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রবিবার সকালে বেলকুচিতে হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করে এবং থানার সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল ছোঁড়ে। পরে বিক্ষোভকারীরা বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে তারা আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ১৪৪ ধারা জারির মধ্য দিয়ে জামায়াত-শিবিরের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ১ম দিন শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন এলাকার আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পার্বতীপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, জামায়াতে ইসলামীর ডাকে হরতালের প্রথম দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত দিনাজপুর-ঢাকাগামী আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি-খুলনাগামী খুলনা মেইলট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। আন্তঃনগর ট্রেনটি দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে ১২টা ২০ মিনিটে পৌঁছে। সকাল থেকে পিকেটিং ছাড়াই শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তায় গাছ ও টায়ার জ্বালিয়ে পার্বতীপুর-দিনাজপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জামায়াতকে প্রতিহত করতে রায়গঞ্জে আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রায়গঞ্জ উপজেলা আ’লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠন ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মহাসড়কসহ বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ গ্রামে জামায়াত-শিবির ও সুযোগ সন্ধানী সন্ত্রাসীরা হিন্দুদের ৮টি বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে বাড়ী- ঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং ৬টি মন্দির ভেঙ্গে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবিতে গতকাল রবিবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে নোয়াখালীর সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। কুড়িগ্রামে বিজিবি, র্যাব ও আর্মড পুলিশ চেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশঙ্কায় বিজিবি, র্যাব ও আর্মড পুলিশ চেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জামায়াত-শিবিরের বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কায় বিজিবি, র্যাব ও আর্মড পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স হিসাবে চাওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে এই চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছেন। পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশকে সর্ব্বোচ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান ফ্যাক্সবার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করে জানান, আশংকা থাকায় যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকানোর জন্য বাড়তি ফোর্স চাওয়া হয়েছে।