চোরাগোপ্তা হামলার আশংকা

হরতালে ব্যাপক সহিংসতায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়িগুলোতে চোরাগোপ্তা হামলার আশংকা করা হচ্ছে। এ কারণে জেলা ও মহানগরীর পুলিশ স্টেশন ও ফাঁড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রধান ফটক আংশিক খোলা রেখে থানাগুলোতে কার্যক্রম চলছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বিশেষ ফোর্স। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতিমধ্যে জেলার লোহাগাড়া ও বাঁশখালী থানায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা হামলা করেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এ কারণে জেলার পুলিশ সদস্যরা উত্কণ্ঠায় রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাঁশখালী ও লোহাগাড়ার ঘটনার পর জেলার অন্যান্য থানা ও ফাঁড়িগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।’ এছাড়া চট্টগ্রাম সিএমপির চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল বণিক বলেন, ‘মেট্রো এলাকায় কোন থানায় এখনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে নাশকতা মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।’ একই কথা বলেন, নগরীর বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না কেউ এদিকে দেশব্যাপী সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। টানা হরতালে জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে। গণপরিবহন সংকটে কর্মজীবীরা বেশি বিপাকে পড়ছেন। গত সপ্তাহে যারা সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তারাও আটকা পড়েছেন। গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণী কার্যক্রম চললেও শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে। তবে চট্টগ্রাম শহরে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। জেলার বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাংচুর ও সড়ক অবরোধসহ অসংখ্য সহিংস ঘটনা ঘটেছে। শহরেও বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা হামলা ও মিছিল করছে হরতাল সমর্থকরা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও গণজাগরণ মঞ্চ হরতালের বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করছে। এসব ঘটনায় মানুষ স্তম্ভিত। জরুরি প্রয়োজন না হলে কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। সকলের মধ্যে এক অজানা আতংক বিরাজ করছে। গণপরিবহন সংকট হরতালে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী নারী-পুরুষ। চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরপাল্লার কোন যানবাহনও ছেড়ে যাচ্ছে না। শহরের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বাস, রাইডার, টেম্পো চলাচল করলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। আবার চোরাগোপ্তা হামলার আশংকায় চালক ও যাত্রীরা সবসময় আতংকে রয়েছেন। এ কারণে কর্মস্থল যাদের কাছে তারা পায়ে হেঁটে এবং যাদের দূরে তারা কয়েকজন শেয়ার করে গাড়ি ভাড়া নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের অবরোধ সৃষ্টির কারণে ওই সড়কে যাতায়াতকারীরা বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রোগী কমেছে হাসপাতালে অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালসহ শহরের অন্য হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমে গেছে। হরতালের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীরা আসতে পারছে না। চট্টগ্রাম মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. ওয়াহিদ হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থায় জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ রোগীর চিকিত্সা দেয়া হয়। কিন্তু গতকাল রবিবার মাত্র ১৩৮ জন রোগী চিকিত্সা নিতে এসেছে। পরিবহন সংকটে রোগীরা আসতে পারছে না।’ বহির্বিভাগেও রোগীদের কোন ভিড় ছিল না। এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালেও একই অবস্থা দেখা গেছে। স্কুলে যাচ্ছে না শিশুরা হরতালের মধ্যে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণী কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। কিন্তু শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি একেবারেই কম। কিন্ডার গার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ছোটদের স্কুলগুলোতে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার আশংকায় অভিভাবকরা ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। আবার শিক্ষকরাও ঝুঁকি নিতে নারাজ। ফলে গ্রাম ও শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণী কার্যক্রমে বৈষ্যমের সৃষ্টি হয়েছে।