রাজধানীর হরতালে
কোন সহিংস
ঘটনা নেই
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২৮
জামায়াতের ডাকা দুই দিনব্যাপী হরতালের প্রথম দিনে গতকাল রাজধানী ঢাকায় কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। হরতালে গোটা রাজধানী ছিল নিরুত্তাপ। সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল করেছে। তবে রাজধানী থেকে কোন দূরপাল্লার রুটে বাস ছাড়েনি। অধিকাংশ এলাকায় দোকান-পাট খোলা ছিল। ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতের হাজিরা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গোটা রাজধানী জুড়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সতর্ক অবস্থানে ছিল।
গতকাল হরতালের পক্ষে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের রাজপথে দেখা যায়নি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফার্মগেট ও কলেজগেট এলাকায় কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত বলে পুলিশ দাবি করে। সকাল ১০টার দিকে শ্যামলীতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সামান্য সংঘর্ষ ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি। দুপুর সোয়া ১টার দিকে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বিহঙ্গ পরিবহনের চলন্ত বাস থেকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে একজনকে আটক করে পুলিশ। ঠিক একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় আল হেলাল হাসপাতালের সামনে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। মগবাজার দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা অফিসের পাশে সকাল ১১টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটা ছিল ব্যক্তিগত বিষয়। তবে কেউ কেউ বলছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এই হাতাহাতি হয়েছে।
এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতাকর্মীরা গতকাল দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হরতালের বিপক্ষে খন্ড খন্ড মিছিল করেন। এসব মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও অংশ নেয়। হরতাল আহ্বানকারীদের রাজপথে দেখা না গেলেও হরতালবিরোধীদের মিছিল-সমাবেশে রাজপথ ছিল সরব। সকাল সাড়ে ৯টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে হরতাল বিরোধী একটি মিছিল মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে বের হয়। মিছিলটি কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে ১০ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে অবস্থানরত তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। রাজধানীর মতিঝিল, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, ধানমন্ডি, কলাবাগান, নীলক্ষেত, ফার্মগেট, মহাখালি, গুলশান, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, মিরপুর, কাফরুল, গাবতলী, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তেমন কোন সহিংস ঘটনা দেখা যায়নি। মানুষের উপস্থিতি কম ছিল বলে যাত্রীবাহী গাড়িও ছিল কম। দুপুরের পর থেকে গুলশান এলাকায় বেশকিছু প্রাইভেট কার চলতে দেখা গেছে।