রাজনৈতিক অস্থিরতায় শেয়ারবাজারে ধস
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২২:৩১
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়ে উঠায় এর প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারে। টানা ছয় দিন দরপতনের পর তিনদিন সূচক কিছুটা স্থির থাকলেও গতকাল রবিবার উভয় শেয়ারবাজারে ধস নামে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে আস্থার সঙ্কট রয়েছে। তদুপরি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েকদিনে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়লে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সঙ্কট আরও তীব্র হয়ে উঠে। যার প্রভাবে গতকাল বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দেয়। এতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নতুন চালু হওয়া ব্রড সূচক কমেছে ২০৭ পয়েন্ট (৫ দশমিক ২ শতাংশ)। গত ১১ কার্যদিবসে ব্রড সূচক কমেছে ৫৩৯ পয়েন্ট। দরপতনের একই ধারা দেখা গেছে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। গতকাল সিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ৫৬৬ পয়েন্ট আর সিএসই-৩০ মূল্য সূচক কমেছে ৫০০ পয়েন্ট।
শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সিএসই প্রেসিডেন্ট আল মারুফ খান ইত্তেফাককে বলেন, আজ (গতকাল) জাতীয় সংসদে ডিমিউচুয়ালাইজেশন (ব্যবস্থাপনাকে মালিকানা থেকে পৃথকীকরণ) বিল উত্থাপিত হয়েছে। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ বিপরীত। একদিনে এতো বড় দরপতন অবশ্যই চিন্তার কারণ। এ দরপতনের মূল কারণ হলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। আল মারুফ খান আরও বলেন, আমদানি-রফতানি থেকে শুরু করে গোটা অর্থনীতিই এখন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে। যা শেয়ারবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ী সব সংগঠন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে অর্থনীতির গতি ব্যাহত হবে।
ডিএসই’র তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র পূর্বতন সাধারণ মূল্য সূচক কমেছে ১৯৮ পয়েন্ট। এর আগে এর চেয়ে বড় দরপতন হয়েছে গত বছর ৬ ফেব্রুয়ারিতে। সেদিন সূচক কমেছিল ২২৯ পয়েন্ট। এদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় আস্থা সঙ্কট তীব্র হওয়ায় শেয়ারবাজারের লেনদেনও অনেক কমে গেছে। গতকাল ডিএসইতে মাত্র ২৬২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও লেনদেন ছিল ২১৪ কোটি টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ থেকে ৫ শত কোটি টাকার উপরে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনকৃত ২৬৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯টির, কমেছে ২৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২টি কোম্পানির শেয়ারের।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হরতালের কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হরতাল কেটে গেলে লেনদেন আবার বাড়তে পারে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা কম। ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক বিনিয়োগকারীই ব্রোকারেজ হাউসে আসছেন না। অনেকেই লেনদেন করছেন টেলিফোনের মাধ্যমে।