নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনার স্বপ্ন পূরণ হবে না :হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, নৈরাজ্য ও নাশকতা সৃষ্টি করে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর যে স্বপ্ন বিএনপি-জামায়াত দেখছে তা কোন দিন পূরণ হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হবে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হরতালবিরোধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সকল থানা ও ওয়ার্ডে হরতাল বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। সারাদেশে চলমান সহিংসতা বন্ধে কোন আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, আমরা কাদের সঙ্গে আলোচনা করবো? যারা দেশকে পাকিস্তানের মত ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চায়? নৈরাজ্যের উস্কানিদাতা ও সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেয়, মদদ দেয়, তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের কোন ব্যর্থতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কোন ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াত ভাবছে দেশে নৈরাজ্য ও নাশকতা সৃষ্টি করে তৃতীয় শক্তির উদ্ভব ঘটানো সম্ভব। তারা মনে করছে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় বসলে যুদ্ধাপরাধীর দায়ে আটক ও দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা রক্ষা পেয়ে যাবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট আন্তরিক। কামরুল বলেন, বিএনপি-জামায়াত যে স্বপ্নে বিভোর হয়ে সারাদেশে নাশকতা চালাচ্ছে, তা কখনোই সফল হবে না। তিনি বলেন, এজন্য সরকার ইতিমধ্যেই সারাদেশে বিজিবি এবং বগুড়ায় সেনা মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি যথেষ্ট শান্ত হয়ে এসেছে। বাকিটাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কেন্দ ীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী, একেএম এনামুল হক শামীম, মহানগর নেতা হাজী মো. সেলিম, আসলামুল হক আসলাম এমপি, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ। রাজধানী মিরপুর, মতিঝিল, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, উত্তরা, মহাখালী, রামপুরা, বাড্ডা, লালবাগ, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাবসহ শতাধিক স্থানে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিরো পয়েন্ট এলাকা হরতাল বিরোধী মিছিল শ্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সকাল থেকেই একের পর এক মিছিল আসতে থাকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ ীয় কার্যালয়ের সামনে। এছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, ওলামা লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন মিছিল করে। এসব মিছিলে সংগঠনগুলোর থানা-ওর্য়াড ইউনিটগুলো অংশ নেয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মিছিল করে সিটি করপোরেশন শ্রমিক লীগ, ওলামা লীগ, তাঁতী লীগসহ সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের ব্যানারে আরো ২২টি সংগঠন।’