গুজব :সাঈদী চাঁদে!

যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চেহারা চাঁদে দেখা গেছে বলে গত শনিবার দিবাগত রাতে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেক স্থানে মসজিদের মাইকযোগে চাঁদে সাঈদীকে দেখতে পাওয়ার ঘোষণা দেয়া হলে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। আমাদের সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গত শনিবার রাত আনুমানিক ১০ টার পর সাতকানিয়া উপজেলার অনেক মসজিদ থেকে মাইকে হঠাত্ ঘোষণা দেয়া হয় আকাশে চাঁদের মাঝে সাঈদীকে দেখা যাচ্ছে। আপনারা সবাই ঘুম থেকে উঠুন। এভাবে কয়েকবার ঘোষণা দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট মসজিদের আশেপাশে শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ গুজবকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত সাঈদীর মুক্তির দাবিতে পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করা হয়। জানা গেছে, হাতিয়ারপুল জামে মসজিদ, ভোয়ালিয়া পাড়া মসজিদ, দক্ষিণ ভোয়ালিয়া পাড়ার ভাঙ্গা মসজিদ, খলিফা পাড়া মসজিদ, সামিয়ার পাড়া মসজিদ, ছিটুয়া পাড়া মসজিদ, দক্ষিণ সামিয়ার পাড়া লামবইত্তাবো মসজিদ, ছগিরা পাড়া মসজিদ, মিয়াজান পাড়া মসজিদ, সাইল্ল্যা বো মসজিদ, চাঁদগাজী মসজিদ, কেওচিয়া মসজিদ, সোনাকানিয়া মসজিদ, পূর্ব-পশ্চিম গাটিয়াডাঙ্গা মসজিদ, রামপুর মসজিদ, মন্তার বো মসজিদ, উত্তর ছমদর খন্দকার পাড়া মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে মাইকে এগুজব প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। এ গুজবের ব্যাপারে আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া পটিয়ার মাওলানা মুফতি আহমদুল্লাহর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাজে কাজ বাজে কাজ। বর্তমানে প্রযুক্তির কারণে অনেক কিছু করা সম্ভব। রবিবার ফযরের নামাজের পর সাতকানিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা হাবিবুল হক মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, গভীর রাতে বিভিন্ন মসজিদে মাইকে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা মুসলমানের ঈমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। সাঈদী সাহেব যদি চাঁদে যেতে পারে তাহলে তার মুক্তি চাওয়ার দরকার কি? হরতাল-অবরোধ করারওবা দরকার কি ? তিনি মুসলমানদের ঈমান রক্ষা করার জন্য সজাগ থাকার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে ঘাটিয়া পাড়ার মফিজুল আলম জানান, ঈমামের কথায় চাঁদ দেখেছি তবে চাঁদে কিছু দেখতে পাইনি। বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, চাঁদে সাঈদীকে দেখতে পাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। হঠাত্ জামায়াত-শিবির কর্মীরা হরতাল সমর্থনে ও সাঈদীর মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর করে ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের মেরাজ কম্পিউটারের দোকান লুট করে। এরপর বেলকুচি থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল ছোঁড়ে। পরে সেখান থেকে ফিরে বিক্ষোভকারীরা শ্রমিক লীগের অফিস ভাংচুর করে। দুপুরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলার কান্দাপাড়া বাজার ১১টি দোকান ও ৩টি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়ি ভাংচুর ও লুট করে চলে যায়। পরে বেলকুচি উপজেলায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা উপজেলা জামায়াত অফিস, জামায়াত নেতা আব্দুল মান্নানের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন ভূইয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদীয়া স্টিল করপোরেশন, বিএনপি নেতা নুর হোসেন মণ্ডলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মণ্ডল ট্রেডার্স, বিএনপি সর্মথকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আল্লার দেয়া ভাণ্ডার, রিতা ফার্মেসি, শামিম ফার্মেসি, মিম ডেন্টাল, কমফোড প্যাথোলজি, খান অটো হাউজ ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ করে বিক্ষুব্ধরা। দুপুরে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে। বগুড়ার কাহালু এবং নীলফামারীর সৈয়দপুরেও একই ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে বলে আমাদের সংবাদদাতাগণ জানিয়েছেন।