মা নিজে প্যারেগ্রাফ, রচনা, কবিতা, মূলভাব, সমাজ, বিজ্ঞান, ধর্ম বিষয়গুলো দেখেতেন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫২
সৈয়দ মাহমুদুল ইসলাম লিখন
লিখন,পাতারহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরিশাল থেকে ২০১৩ সালের পিএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।
আমি এখন পাতারহাট মুসলিম মডেল হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। গেল বছর আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমার এ পরিশ্রমে শক্তি জুগিয়েছেন আমার মা। ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়ে পড়তে বসতাম। নিজ ইচ্ছাই জাগতে পাড়তাম আবার কখনো মা ডেকে দিতেন। সকাল সাড়ে নয়টায় স্কুলে যেতাম । স্কুলে যাওয়ার আগে কোনদিন দুইটা কোনদিন তিনটা বিষয় পড়তে পারতাম। কোনদিন নতুন কিছু শিখতাম কোনদিন রিভিশন দিতাম। স্কুল থেকে ফিরে হাতমুখ ধোয়ে খাওয়া ধাওয়া শেষে বিশ্রাম নিতাম টিভি দেখতাম। তারপর আবার শুরু করতাম পড়া । মা বলেন ‘লিখন এগারটা পর্যন্ত পড়ত কোনদিন পোনে বারোটাও বাজত’। সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায় কোচিং এ যেত আর ফিরত রাত দশটায়। বাড়ি ফেরার পর কোচিং এ কী পড়ল, স্কুলে কী পড়ল ,তা আমি দেখতাম এসব দেখতে দেখতেই লিখনের রাত এগারটা পোনে বারোটা বেজে যেত।
লিখন কম পড়ে, তবে যেটুকু পড়ে মনোযোগ দিয়েই পড়ে। সপ্তাহে কোন কোন দিন ক্লান্ত লাগলে আমি তাকে ঘুমাতে বলতাম। স্কুলের হেড টিচার মো. মোশাররফ হোসেন তার অংক দেখতেন। আমি নিজে প্যারেগ্রাফ, রচনা, কবিতা, মূলভাব, সমাজ, বিজ্ঞান, ধর্ম দেখতাম। লিখন ১৬ টা প্যারেগ্রাফ, ৯ টা রচনা শিখেছিল। আমি পরম করুণাময়ের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তার এই ফলাফলের জন্যে।
তার পরিশ্রম সফল হয়েছে। আমি আশির্বাদ করছি সে যেন আরো শক্তি অর্জন করতে পারে তার নিজের ও দেশের উন্নতির জন্যে।