বরিশালে দাম বেড়েছে পণ্যের
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৬
টানা তিনদিনের হরতালের কারণে এখানকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে সকল প্রকার শাক-সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মজুদদার কৌশলে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ভোক্তা ক্রেতাদের অভিযোগ। রবিবার ও সোমবার দু’দিন নগরীর পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে গুদামগুলোতে বিপুল পণ্য মজুদ থাকলেও মূল্য চড়া। হরতালের অজুহাত তুলে খুচরা বাজারেও বাড়ানো হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, হরতালের কারণে শাক-সবজির মূল্য বাড়লেও যে সব জিনিসপত্র পচনশীল নয় তার মূল্যও বাড়ানো হয়েছে। হরতালকে কেন্দ্র করে ২/১ দিনের ব্যবধানে আলু কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৪/৫ টাকা। শুধু আলু নয়, শাক-সবজিও খুচরা বাজারগুলোতে ৩/৪ টাকা বেশি দরে ক্রয় করতে হচ্ছে। আলু ও শাক-সবজির মতই নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, পিঁয়াজসহ জিনিসপত্রে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর বাজারগুলোর মতই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, ভোলা, বরগুনা, হিজলা, মুলাদীসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে যেসব সবজি ও মাছ আসতো তা হরতালের কারণে আসতে পারেনি। এ সুযোগে শাক-সবজির পাইকারি বাজারগুলোতে পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। মাছের বাজারেও দেখা মিলছে না মাছের। শীতকালীন মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাইব্রিড যে সকল প্রজাতির মাছ এখানকার বাজারে আসতো তা হরতালের কারণে আসছে না বলে বাজার রোডের বড়বাজার, চৌমাথা ও পোর্ট রোডের মত্স্য ব্যবসায়ীরা জানান।
নগরীর কাঁচামালের পাইকারি বাজার সিটি মার্কেট, বাজার রোড, পোর্টরোডসহ পাইকারি বাজারগুলো ঘুরে গতকাল দেখা গেছে শাক-সবজির সরবরাহ কম থাকায় মানুষ আলুসহ বিকল্প যা ক্রয় করছেন তা গুদাম থেকে বের করে পাইকারি ব্যবসায়ীরাই বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন। সিটি মার্কেটের সর্ববৃহত্ পাইকারি আড়ত্ দত্ত বাণিজ্যালয়ের মালিক গনেশ দত্ত জানান, আলুর দাম গত সপ্তাহে ১২ টাকা থেকে ৪ টাকা কমে ৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছিল। হরতালের প্রথমদিনেই ৪ টাকা বেড়ে তা আবার ১২ টাকায় ফিরেছে। হরতালের প্রথম দিনে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১৪ টাকায়। পিঁয়াজ কেজি প্রতি ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪১ টাকায়, চাল, ডাল, তেলের দাম প্রকারভেদে কেজি প্রতি ৩/৪ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা তা ক্রয় করে নগরীর বাজারগুলোতে বিক্রি করছে কেজি প্রতি ৬/৮ টাকা বেশি দরে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করে দাম বৃদ্ধি করায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। পাইকারি আড়ত্ থেকে চড়া দামে পণ্য ক্রয় করার কারণেই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
হরতালে নগরীতে যেসব যানবাহন চলাচল করছে তাতে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। সাধারণ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে রিক্সা, অটোরিক্সা, আলফাসহ নানান যানবাহনে ১০ টাকার স্থলে ২০ থেকে ২৫ টাকায় যাতায়াত করছেন।