এই মৃত্যুর সান্ত্বনা নেই স্বজনদের

‘চাঁদে সাঈদীকে দেখা যাচ্ছে’ গুজবে মিছিলে যান বগুড়ার টিটু

গত রবিবার ভোররাত ৪টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা হঠাত্ করে মাইক বাজিয়ে প্রচার শুরু করে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে। এই গুজব শুনে সহজ সরল গ্রামবাসিরা সবাই হুড়মুড় করে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। এসময় তাদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘‘সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে। এরকম একজন আলেমকে সরকার ফাঁসি দিতে চায়। তোমাদের প্রতিরোধ করতে হবে। যার যা লাঠি বাাঁশ আছে তাই নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। মারা গেলে শহীদ হবে। বেহেশত নিশ্চিত।’’ এই ধরণের কথা শুনে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে যায়। নারী, পুরুষ, শিশু সবাই চরম উত্সাহে হাতে লাঠি নিয়ে মিছিল শুরু করে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় রওয়ানা হয়। বিশাল মিছিলটি স্টেশন রোড দিয়ে সাতমাথায় পৌঁছার আগ মূহুর্তে বিআরটিসি বাস ডিপোর কাছে পৌছালে পুলিশ বাঁধা দেয়। কিন্তু বাঁধা না মেনে হৈ হৈ করে সবাই সামনে এগোবার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ গুলি চালায়। তখন সবাই হুড়োহুড়ি ও ছুুটোছুটি শুরু করে। হঠাত্ রাস্তায় পড়ে যায় টিটু। পরে তার লাশ পাওযা যায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে। টিটুর পিতা আলম ছেলে হারানোর শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তবে তিনি তার ছেলের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে বলেন, ‘‘আমার ছেলে রাজনীতি করতো না। সে সকালে কাজে যেতো, রাতে ফিরতো। সেদিন ভোররাতে মাইকে সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে এমন ঘোষণা শুনে তার দুই ছেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কখন সবার সাথে মিছিলে গেছে, জানতেই পারিনি। মিছিলে গিয়েই লাশ হয়ে ফিরলো আমার আদরের ধন ।’’ টিটুর মা শাকিলা খাতুন ছেলে হারানোর শোকে মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন বার বার। মিছিলে যাওয়া কয়েকজন জানালেন, বেশিরভাগ নারী,পুরুষ, শিশু মিছিলে গিয়েছিল কোনোকিছু না বুঝেই। ভোররাতে মাইকিং করে সবাইকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানায় এলাকার জামায়াত শিবির কর্মীরা। টিটুর লাশ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুরে গাজী পালশা এলাকায় নামাজে জানাযা শেষে তার মরদেহ যশোরের জিকরগাছার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পূরন্ধরপুর গ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে তার পিতা আলম হোসেন জানান। টিটুর বাবা আলম হোসেন পেশায় পরিবহনের রংমিস্ত্রি। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পূরন্ধরপুর গ্রামে তার বাড়ি। তিনি কাজের সন্ধানে বগুড়া আসেন প্রায় ২৫ বছর আগে। বগুড়া শহরতলীর গাজী পালশায় বাদল কুন্ডুর বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন।