নোয়াখালীতে মন্দির ও বাড়ি-ঘরে আগুনের ঘটনায় গ্রেফতার ২৪

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ৮ জন এজাহারভুক্ত ও অপর ১৬ জন সন্দেহভাজন আসামি। গ্রফতারকৃতরা হল মাহমুদুল হাসান, কামরুল, আকতারুজামান, শাকাওয়াত হোসেন, মোঃ সুজন, মিজানুর রহমান ও নিশান। সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নের রাজগঞ্জ, আলাদি নগর গ্রাম ও কালির হাট এলাকায় সংখ্যালঘুদের ৮টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট করে। একই সময় তারা ৬টি মন্দিরও ভাংচুর করে। এতে ৩৬টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ৪০টি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এই সময় ঘটনাস্থলে একজন পথচারী মাছ ব্যবসায়ী লিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ও গুলিবিদ্ধ কামলা নুরু উদ্দিন পরদিন চিকিত্সাধীন অবস্থায় জেলা শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। প্রায় ৩ ঘন্টা সংঘর্ষ চলার এক পর্যায়ে র্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনার পরদিন বেগমগঞ্জ থানার এস আই মিজানুর রহমান পাঠান বাদী হয়ে ৭১ জনকে এজাহারভুক্ত ও আরো দেড় থেকে দুই হাজার অজ্ঞাত জামায়াত- শিবির কর্মীর বিরুদ্ধে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মারধর ও পুলিশের উপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬টি হিন্দু পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অসহায় অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় জীবন-যাপন করছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, নোয়াখালী সদরের এম’পি একরামুল করিম চৌধুরী, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট ও বিভিন্ন সংগঠন নগদ অর্থ ও খাবার সামগ্রী বিতরণ করেছে। নোয়াখালীর ভারপ্রাপ্ত এসপি মাহবুবুর রশিদ জানিয়েছেন, এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে জন্য প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।