ফের মুখরিত ক্যাম্পাস
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫৫
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্ববৃহত্ ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। সুদীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দক্ষ কৃষিবিদ আর অভিজ্ঞ কৃষিবিজ্ঞানী তৈরির মাধম্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে এগিয়ে দিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট শূন্যের কোঠায়। তবে এ বছরের ১৯ জানুয়ারি অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছিল শিক্ষার্থীদের মনে। তবে টানা ৩৮দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ খুলে দেয়া হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে ক্লাস শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীরা চলে আসায় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে প্রাণোচ্ছল পরিবেশ। অনেকদিন পর দেখা হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও বেজায় খুশি। এখন ক্যাম্পাসে কিছুদিন আগের নিরবতা কিংবা কোলাহলশূন্য পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের পদভারে এখন মুখরিত ক্যাম্পাসের সর্বত্র। চারদিকে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসময় এক কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের মাস্টার্স শিক্ষার্থী সৈকত ও তন্ময় বলেন, অনেকদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় নানাদিক থেকেই সমস্যার মধ্যে ছিলাম। ক্যাম্পাসে না থাকলেই ক্যাম্পাসকে বেশি মিস তো করবই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার কথা কি ভুলে থাকা যায়! আবার বিশ্ববিদ্যালয় হল জীবনের আনন্দময় আর মজার অভিজ্ঞতাও কখনো ভোলার নয়। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে বাসায় যেন সময় আর কাটে না। অন্যদিকে পশুপালন অনুষদের ছাত্র সাঈদের মত একটু ভিন্ন। তার মতে, ক্যাম্পাস বন্ধ মানে বাসায় গিয়ে আনলিমিটেড ঘুম আর খাওয়া-দাওয়া। তবে ক্যাম্পাসকে সে মিস করে ঠিকই।
এদিকে কৃষি অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থী তানজীমা তানি, শামীমা আক্তার ও শিহাব জানায়, আমাদের ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবার মুখরিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাই ক্যাম্পাসের প্রাণ। শিক্ষার্থী ছাড়া ক্যাম্পাস শূন্য শূন্য মনে হয়। এবারের শীতে আমাদের ক্যাম্পাস অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শীতের আমেজ অনেকটাই মিস করেছে।
এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল অনুষদে নিয়মিতভাবে ক্লাস শুরু হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের সর্বত্র শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। ভেটেরিনারি অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান, তাপস কুমার, শারমিন ও শান্তা জানায়, অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে এসে খুবই ভাল লাগছে। ক্যাম্পাস হলো মুক্তভাবে ঘোরাঘুরি করার উপযুক্ত স্থান। ক্লাস কিংবা হলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেই যেন সময় পার হয়ে যায়। অনেকদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় পড়ালেখার কিছুটা বিঘ্ন হয়েছে। এজন্য ক্যাম্পাস সব সময় খোলা থাকা উচিত। এর ফলে পড়ালেখার পাশাপাশি মুক্ত চর্চারও সুযোগ পাওয়া যায়। তাই ক্যাম্পাস খোলার পর পড়ালেখার চাপ বেড়ে গেছে।
ইকবাল হোসাইন রুদ্র
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বসন্তের আগমন আর ভর্তিচ্ছুদের পদচারণায় এক নব সাজে সেজেছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ায় ভর্তিচ্ছুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল ক্যাম্পাস। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভর্তি পরীক্ষার্থীরা কুষ্টিয়ার বসন্ত বাতাসে নিজেকে অনেকটা উচ্ছ্বাসের জগতে ভাসিয়ে দিয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সন্ধ্যাবেলা ক্যাম্পাসের চিরায়ত আড্ডার জায়গাগুলোতে বন্ধু-বান্ধব আর বড় ভাইদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা গেছে ভর্তিচ্ছুদের। তবে এবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে সবার মধ্যে একটাই চিন্তা কাজ করছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারব কি পারব না? তারপরও আনন্দে আত্মহারা হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বলে ফেলেন তাদের অনুভূতির কথা। সুদূর সুন্দরবন এলাকা সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা থকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা সুমাইয়া তাবাস্সুম বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরম পরিবেশ আমাকে বিমোহিত করেছে। এতদিন বড় ভাইদের কাছে শুনেছি এ ক্যাম্পাসের কথা। এবার নিজেই এসেছি ভর্তি যুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে মনের লালন করা স্বপ্নকে পূরণ করতে। ঢাকার গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে আসা আরেক শিক্ষার্থী রিফাত মাহমুদ জানালেন, তার তাত্ক্ষণিক অনুভূতি- বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারা আর সোনার হরিণ হাতে পাওয়া এক কথা। দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে চান্স পাওয়া খুবই দুরূহ। তাই সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এর আসন ও পড়ালেখার মান বৃদ্ধি করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের সাহায্য করতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। জেলা ও থানা সংগঠনগুলোকে তাদের নিজ নিজ এলাকার ভর্তিচ্ছুদের স্বাগত জানাতে ও সেবা দিতে তত্পর থাকতে দেখা গেছে। তবে ইবি প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা ভর্তিচ্ছুদের বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছে। এছাড়াও স্বেচ্ছা রক্তদাতা সংগঠন তারুণ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোটারেক্ট, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটের সদস্যদের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ছাত্র সংগঠনগুলোর সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা ভর্তিচ্ছুদের হলে থাকার ব্যবস্থা, পরীক্ষার রুটিন সরবরাহসহ বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক্যাম্পাসে ছিনতাই ও অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বসেছিল রকমারি সব খাবারের দোকান। শিক্ষার্থীদের এসব দোকানে দল বেঁধে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে দেখা গিয়েছিল। এসব দোকানে খিচুড়ি, পোলাও, বিরিয়ানী, পরোটা থেকে শুরু করে প্রায় সবরকম খাবারের ব্যবস্থা ছিল।