সিরিয়ায় প্রাদেশিক রাজধানী রাক্কা বিদ্রোহীদের দখলে
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫৯
প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর সাথে গত কয়েকদিনের তুমুল সংঘর্ষের পর সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় নগরী ও প্রাদেশিক রাজধানী আল-রাক্কা ‘প্রায় পুরোপুরি দখলে’ নিয়েছে। এছাড়া হমসেও সংঘাতের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। জানা গেছে, রাক্কা একটি প্রাচীন শহর। গ্রীকবীর আলেকজান্ডার শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুরের সময় শহরটি পুনর্নির্মিত হয়। ওই সময় বাগদাদের পর এটি আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী ছিল। ইফফ্রেটাসের তীরে অবস্থিত রাক্কা নগরীর পতন দু’বছর ধরে চলা আসাদবিরোধী বিদ্রোহের একটি তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি। এই প্রথম বিদ্রোহীরা কোনো প্রাদেশিক রাজধানী নিজেদের দখলে নেয়ার দাবি করলো। আন্দোলনকারীদের বিতরণ করা অপেশাদার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাক্কার অধিবাসীরা বাশারের পিতা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের একটি বিশাল ভাস্কর্য ধ্বংস করছে।
বিদ্রোহী যোদ্ধারা বলেছে, রাক্কা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাদেশিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়া সরকারি বাহিনী এখনও একটি হুমকি। নগরীর একজন অধিবাসী জানিয়েছে, দখলে নিতে না পারলেও সিরিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দপ্তর ঘিরে রেখেছে আসাদবিরোধী যোদ্ধারা। আন্দোলনকর্মীরা জানিয়েছে,বিদ্রোহীদের হাতে পুলিশের একজন প্রধান নিহত এবং দু’জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বন্দি হয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক রামি আব্দুল রহমান বলেছেন, সিরিয়ায় এটাই প্রথম কোনো প্রাদেশিক রাজধানীতে বিদ্রোহীরা এই ধরনের অগ্রগতি করলো। সরকারের কিছু অবস্থান ছাড়া তারা রাক্কা নগরী ‘প্রায় পুরোপুরি দখলে’ নিয়েছে। এদিকে সোমবার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত হমসের কেন্দ্রীয় নগরীতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পুরনো শহরের পার্শ্ববর্তী জৌরেত আল-শিয়াহ, খালদিয়েহ এবং কারাবিসে নিয়মিত সেনাদের পাশাপাশি সরকার সমর্থিত যোদ্ধারা অভিযানে অংশ নেয়। আন্দোলনকর্মীরা জানিয়েছে, গত কয়েক মাসের তুলনায় সংঘর্ষের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সরকারি এবং বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে।