ডাচ কোচের আবিষ্কার
তকলিস
স্পোর্টস রিপোর্টার, কাঠমান্ডু নেপাল থেকে
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২১:০২
নেপালের সাথে ম্যাচ জিতে দারুণ ক্ষুধার্ত ছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। হোটেলে ফিরেই সবাই চলে যান ডাইনিং হলে। যে যার মতো খেয়ে চলে গেলে চার তলায় ম্যাচের জোড়া গোলদাতা রনির সাথে দেখা হয় তরুণ স্ট্রাইকার তকলিসের সাথে। সিনেমা স্টাইলে তকলিসের মুখে গায়ে পিঠে ঘুসি মারছিলেন আনন্দে আত্মহারা রনি। কারণ নেপালের বিরুদ্ধে রনির দুই গোলের জোগানদাতা তকলিস আহমেদ। নেপালের সর্বনাশের পথে বল বাড়িয়ে দিয়ে ২৫ হাজার দর্শকের উল্লাস থামান বাংলাদেশের ফুটবলের ক্ষুদে তারকা সিলেটের ছেলে তকলিস। লিংকনের ক্রস করা বলে তকলিস হেড করতে উঠলে তাকে পেছন থেকে জার্সি টানেন নেপালের বিরাজ। তকলিস কৌশল করে সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পেনাল্টি আদায় করেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেপালের চাপে বাংলাদেশ যখন কোণঠাসা সে সময় কাউন্টার অ্যাটাকে বল পেয়ে তকলিস বল নিয়ে বাঁয়ে ঝাঁপান। আবার সেই ডিফেন্ডার বিরাজকে ডজ দিয়ে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে নিখুঁত বল ফেলেন রনির পায়ে। রনি বল পাঠালেন জালে। নেপালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকলেন। অথচ ম্যাচ শেষে তকলিসকে নিয়ে আলোচনা হয়নি। আনন্দে ভিড়ের মধ্যে সবার আড়ালে চলে যান তিনি। সতীর্থ মিশু, মারুফরা তকলিসের ব্যাপারে বললেন ‘ওর কারণে আমরা ম্যাচ জিতেছি।’ গোলদাতা রনির কথাও তকলিসের পক্ষে।
প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকতে তকলিসকে নামানো হয়েছিল। সেখানে ভালো খেলার কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ঝুঁকি নিয়ে ডাচ কোচ সেরা একাদশে ঠেলে দেন তকলিসকে। স্টেডিয়াম ভরা দর্শক দেখে ওয়ার্মআপ করার সময় নাকি ভয়ে কাঁপছিলেন বলে জানান তিনি। তকলিস বলেন, ‘ওয়ার্মআপ করার সময় আমার পা কাঁপছিল। মারুফ ভাইসহ সিনিয়ররা আমাকে সান্ত্বনা দিলে আমি সাহস পাই। আর যখন জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠে তখন আমার চোখে পানি চলে আসে। আমার ভেতরে জেদ চাপে দেশের জন্য জীবন দেয়ার।’
তকলিস ঢাকার ফুটবলের উদীয়মান খেলোয়াড়। স্বল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় দলে ঢুকে গেছেন। এর আগে দেশি কোচদের উপেক্ষার শিকার ছিলেন। চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য ২৩ জন থেকে ৩০ জনের তালিকা করার সময় দেশি কোচরা রেনে কেস্তারকে বলেছিলেন অনভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়কে না নিতে। কিন্তু রেনে কেস্তার সেসবে আমল না দিয়ে ক্রুইফকে বুঝিয়েছেন তকলিসকে নেয়ার জন্য। প্রতিভার স্ফুরণ দেখে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সের তরুণ ফুটবলার তকলিসকে দিয়ে খেলা আদায় করার। ডাচ কোচদের আবিষ্কার তকলিস দেশের মান রেখেছেন। তকলিস বললেন, ‘দেশি কোচ হলে হয়তো আমাকে মাঠেই নামার সুযোগ দেয়া হতো না। বিদেশি কোচ বলেই সুযোগ হয়েছে। ক্রুইফ আমাকে আলাদা করে শ্যুটিং করিয়েছেন। কিভাবে গোল করতে হয় সেটা দেখিয়েছেন। ম্যাচ জয়ের পর আমার মায়ের সাথে কথা হয়। খেলা দেখে মা কাঁদছিলেন। সিলেটের মেজর টিলার বাসায় এলাকার সবাই খেলা দেখেছেন।’