সাতাশ বছরে দুই লক্ষাধিক কুষ্ঠরোগী শনাক্ত
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২১:১১
দেশের সবচেয়ে বেশি কুষ্ঠ প্রবণ দু’টি জেলা গাইবান্ধা ও নীলফামারী। গত ২৭ বছরে দেশে দুই লক্ষাধিক কুষ্ঠরোগী সনাক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে চলতি বছরে নিপাহ রোগে আক্রান্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম. রুহুল হক সংসদকে এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে গতকাল ছিলো চলতি অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবস। সাধনা হালদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় কুষ্ঠ উচ্ছেদ কর্মসূচির আওতায় ১৯৮৫ সাল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে দুই লাখ দুই হাজার ৭৬৬ জন কুষ্ঠরোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৯ জন চিকিত্সায় সুস্থ হয়েছে। অপরদিকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের হিসাবে চিকিত্সাধীন কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪৫৯ জন। দেশে সবচেয়ে বেশি কুষ্ঠ প্রবণ দু’টি জেলা গাইবান্ধা ও নীলফামারী।
আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাদুর নিপাহ রোগের বাহক। খেজুরের রসের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। তাছাড়া বাদুরের খাওয়া ফলের মাধ্যমেও আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। চলতি বছর দেশের ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলার সিভিল সার্জন ও ২১৮টি উপজেলার স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ২০০১ থেকে এ পর্যন্ত নিপাহ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ১৯৬ জন। মারা গেছে ১৩৮ জন। চলতি বছরে ১৬ জন আক্রান্ত হয় এবং মারা গেছে ১৪ জন। বর্তমানে দেশে নিপাহ রোগী নেই।
বেগম ফরিদা রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম. রুহুল হক জানান, এইডস রোগীদের চিকিত্সার জন্য দেশে পৃথক কোন হাসপাতাল নেই। রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এইডস রোগীদের চিকিত্সা প্রদান করা হচ্ছে। এজন্য হাসপাতালে ১৪টি শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়াও সরকারি খরচে ৮১০ জন এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি সেবা পাচ্ছে। দেশের আটটি পুরনো সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এইডস রোগীদের জন্য শয্যা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের নতুন হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল ও যন্ত্রপাতি সংকট আছে। এ অবস্থা নিরসনে সরকার নতুন নতুন পদ সৃষ্টিসহ জনবল পদায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। নতুন ১২টি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৫৬টি নার্সিং ইন্সট্রাকটরের পদ পূরণ করা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৫৬টি পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। চিকিত্সকের সংকট নিরসনে সাত হাজার পদের নিয়োগ দেয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া নতুন হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি অর্থ বছরে এমএসআর বাবদ শয্যা প্রতি ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ টাকা ব্যয় হবে ওষুধ কেনায়। আরো টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এবিএম আবুল কাসেমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ ওষুধ দেশেই উত্পাদন হচ্ছে। রাজধানীর মহাখালীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় আধুনিক মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি সংযোজন করে একটি আন্তর্জাতিক মানের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিতে ভ্যাকসিনসহ সকল ধরনের ওষুধ পরীক্ষা করা সম্ভব।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে দেখা যায় রোগী গেলে হাসপাতালের স্টাফরা ট্রলি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের চার থেকে পাঁচশত টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ট্রলিতে করে স্টাফরা রোগী নিতে চায় না। বিশেষ করে এ ধরনের প্রবণতা হার্ট ফাউন্ডেশন ও পঙ্গু হাসপাতালে দেখা যায়। এসব প্রবণতা বন্ধের ব্যবস্থা সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বিএসসি জানতে চান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হার্ট ফাউন্ডেশন একটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হাসপাতাল। তবে পঙ্গু হাসপাতালে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।