ছয়দিন ধরে অবরুদ্ধ বান্দরবানের মানুষ
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২১:২৫
বান্দরবানে ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ লক্ষাধিক মানুষসহ বেড়াতে আসা পর্যটকরা। সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বান্দরবানে ওষুধ, ডিম, পান, তরল দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের দস্থিদারহাট, বুড়িরদোকানসহ বিভিন্নস্থানে রাস্তায় গাছের টুকরো এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রধান সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এসব স্থানে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের প্রতিবন্ধকতায় গত বৃহস্পতিবার থেকে বান্দরবান জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং রাঙামাটিসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত ৬ দিন ধরে বান্দরবানের লক্ষাধিক মানুষসহ বেড়াতে আসা দু’শতাধিকেরও বেশি পর্যটক অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বান্দরবানে ওষুধ, ডিম, তরল দুধ, পানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের কারণে ব্যবসায়ীয়া জিনিসপত্রে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বান্দরবানে ডিমের হালি বিক্রি হয়েছে ১৫৬ টাকায়, প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩/১৪ টাকায়, একখিলি পান বিক্রি হয়েছে ৫/৬ টাকায়, চাউলের বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। একই মাছ, মাংস এবং সবজির দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে সোমবার দুপুর থেকে ডিম, তরল দুধ এবং পান পাওয়া যাচ্ছে বান্দরবানে। টানা ৬ দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় জিনিসপত্রের মজুদ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ মাহমুদসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন জানান, বান্দরবানের সীমানায় কোনো সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়নি। বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কে গাছের টুকরো ফেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা অবরোধ করে রাখায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জরুরি শান্তি সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহনে এবং আটকা পড়া পর্যটকরা সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। প্রয়োজনে সাতকানিয়া, চট্টগ্রামের প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও নেয়া হবে।