বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার চার্জশিট আসামি ২১ ছাত্রলীগ কর্মী

পুরান ঢাকার বহুল আলোচিত দর্জি (পথচারী ) বিশ্বজিত্ দাস হত্যা মামলায় ২১ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ঘটনার দুই মাস ২৩ দিন পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর তাজুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। গত ৯ ডিসেম্বর বিরোধীদলের অবরোধের সময় পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে দর্জি দোকানি পথচারী বিশ্বজিেক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চার্জশিটে ২১ আসামির সবাই ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার সুপারভাইজিং কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সানোয়ার হোসেন বলেন, চার্জশিটে ২১ জন আসামির মধ্যে সাতজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- শাকিল, নাহিদ, এমদাদ, শাওন, কিবরিয়া, সাইফুল ও কাইয়ুম। এরমধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ১৪ জন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও ক্রোকি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সন্দেহজনকভাবে। অপর সাতজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছিল। সন্দেহভাজন চারজনের কোন ধরনের সম্পৃক্তা না পাওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৬০ জনকে । চার্জশিটে পুরান ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও ছাত্রলীগের এই ২১ নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাজন তালুকদার, ইউনুস আলী, কাইউম মিয়া টিপু, এইচ এম কিবরিয়া, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, আজিজুর রহমান, আলাউদ্দিন, ইমরান হোসেন, মোস্তফা, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রাশেদুজ্জামান শাওন, মীর নূরে আলম লিমন, আল-আমিন, সাইফুল ইসলাম, রফিক, এমদাদুল হক, কামরুল তমাল, পাভেল ও মোশাররফ। মামলার তদন্ত তাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজিতের ওপর হামলার কিছু সময় আগে আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী সাতজন আইনজীবীর ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে ঐ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার সঙ্গে সমন্বিত করা হয়েছে। বিশ্বজিতের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর মশুরা গ্রামে। ঘটনার দিন রাত্রেই সুত্রাপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর জালাল আহমেদ অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামির করে সুত্রাপুর থানায় মামলা করেন। একই ঘটনায় ১৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালতে করা মামলায় ১০ আসামির নাম উল্লেখ ও শতাধিক ব্যক্তির কথা বলা হয়। তারা হলেন, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া।