হরতালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ

চারদলীয় জোটের দুই প্রধান শরিক বিএনপি ও জামায়াতের ৬০ ঘণ্টার লাগাতার হরতাল গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়েছে। রবিবার ভোর ৬টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত জামায়াতের ডাকা হরতালের পরই বিএনপির ১২ ঘণ্টা হরতাল শুরু হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের এটাই টানা দীর্ঘ সময়ের হরতাল। জামায়াতের ডাকা প্রথম দুই দিনের হরতালে সারাদেশে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন স্থানে ২৮ জন নিহত হয়। হরতালের কারণে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। রাজধানীর সাথে দেশের সকল জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ছাড়াও বেনাপল স্থল বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এমনকি চট্টগ্রাম থেকে সংবাদপত্রের জন্য আমদানিকৃত নিউজ প্রিন্টও ঢাকায় পৌঁছেনি। তবে গতকালের হরতালে সারাদেশে তেমন বড় ধরনের কোন সহিংসতা হয়নি। এদিকে গতকাল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানের অফিসে জামায়াত-শিবির কর্মীদের নিক্ষিপ্ত বোমায় শকুর আলী নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হলে হাসপাতালে নেয়ার পর বিকালে মারা গেছেন। এছাড়া রবি ও সোমবারের হরতালে আহতদের মধ্যে রংপুরে পুলিশ সদস্য মোজাহার আলী, টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ নেতা শহীদ সিদ্দিকী, ঠাকুরগাঁওয়ে দুলাল, বরগুনায় সেলিম শেখ চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকালের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে পিকেটাররা রাজধানীতে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর এবং দুটি যানবাহনে আগুন দেয়। ভাংচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ২১ জনকে আটক করে। হরতালের সময় রাজধানীর দু’-একটি এলাকা ছাড়া রাস্তায় বিএনপির তেমন কোন নেতাকর্মী দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন এলাকায় হরতালের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রাস্তায় মিছিল করতে দেখা গেছে। নগরীতে তেমন কোন সহিংস ঘটনাও ঘটেনি। বিজয়নগর, সবুজবাগ, মুগদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান লিংক রোডসহ বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল থেকেই রাস্তায় রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল ছিল প্রায় স্বাভাবিক। গণপরিবহনের সংখ্যাও গত দু’দিনের তুলনায় ছিল বেশি। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কাওরান বাজারে একটি বাসে আগুন দেয় হরতালকারীরা। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মিরপুরের দোয়ারিপাড়ায় আরেকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়ার সময় কয়েকটি হাতবোমাও ফাটানো হয়। যাত্রাবাড়ী গোলাপবাগে একটি বাস ভাংচুর করা হয়। সকাল ১০টার দিকে মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকায় একটি ভবনের ছাদ থেকে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখান থেকে সন্দেহভাজন হিসাবে দুজনকে আটক করে পুলিশ। হরতালের সময় গুলশান এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে এলাকায় সাময়িক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মিরপুর বাঙলা কলেজের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে ভোর ছয়টা ২০ মিনিটের দিকে হরতাল-সমর্থনকারীরা ঢিল ছোঁড়েন। এতে বাসের কাঁচ ভেঙে যায়। এক পর্যায়ে তারা বাসটিতে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিন থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে কাঁচাবাজার-সংলগ্ন মসজিদের পাশ থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন হরতাল-সমর্থকেরা। পাশে থাকা পুলিশ বক্সে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের হটিয়ে দেয়। এ সময় হরতাল-সমর্থকেরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর বাংলা স্কুল ও মিরপুর কবরস্থানের মধ্যবর্তী স্থানের রাস্তায় ১০-১২ জন পিকেটার হঠাত্ করে যানবাহন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে যায়। এ সময় পিকেটাররা পরপর তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেওড়াপাড়ায় রাস্তার যানবাহন লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে কয়েকজন পিকেটার। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন জায়গায় পিকেটারদের খোঁজে তল্লাশি চালায়। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি। এদিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে আসে। এ সময় গোটা এলাকা হরতালবিরোধী শ্লোগানে মুখরিত হয়। পরে সেখানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর একটার দিকে ফার্মগেটে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল দেখা যায়। সকালের দিকে গাবতলী, কমলাপুর, বিজয় সরণী, পুরানা পল্টন ও আজিমপুরে মত্স ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ মিছিল করে। তিতুমীর কলেজ, ওয়্যারলেস গেটসহ মহাখালীর বিভিন্ন এলাকায় কিছুক্ষণ পর পর বনানী থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিতুমীর কলেজ শাখার নেতা-কর্মীরা মিছিল ও মোটরসাইকেল র্যালি বের করে। গতকালও নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল প্রায় অবরুদ্ধ। এর আশ-পাশে দলটির নেতা-কর্মীদের কোনো পিকেটিং কিংবা মিছিল করতে দেখা না গেলেও অন্তত ১০টি ককেটল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। এছাড়া কাকরাইলে নাইটেংগেল মোড়ে হঠাত্ মিছিল বের করার চেষ্টা করে কিছু শিবিরকর্মী। তবে গতকাল হরতাল চলাকালে এ এলাকার আলোচিত ঘটনা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মোটরসাইকেল মিছিল করার ঘটনা। সকাল পৌনে সাতটার দিকে রিজভী নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময় সাদা পোশাক পরিহিত কয়েকজন পুলিশ তাকে টেনে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। এসময় রিজভী মাটিতে শুয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বাধার কারণে তাকে নিতে না পারলেও পুলিশ সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মানিককে ধরে নিয়ে যায়। সকাল ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলের মহড়া দেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে চড়ে মিছিল করে তারা নয়াপল্টন বিএনপি অফিসের সামনে দিয়ে কাকরাইলের দিকে চলে যায়। এসময় সেখানে বেশ উত্তেজনা দেখা দিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এসময় সেখানে থাকা বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক সাংবাদকিদের বলেন, পুলিশ আমাদের মিছিল করতে দেয় না। এর আগে সকাল ১০টার দিকে বিজয়নগরে মিছিলের চেষ্টা করে ছাত্রশিবিরের কিছু কর্মী। কাকরাইলের নাইটেঙ্গেল হোটেলের পাশের গলি দিয়ে মিছিলটি রাজপথে ওঠার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি কার্যালয় থেকে ৫০ ফুট দূরে পল্টন মসজিদ গলির কাছে চলন্ত মোটর সাইকেল থেকে একটি ককটেল ফাটায় কয়েক যুবক। এসময় বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ১২টার পর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় আন্দনভবন ও নয়াপল্টন মসজিদের কাছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। পুলিশ কাউকে আটকও করতে পারেনি। প্রথম হাতবোমাটি বিস্ফোরণের পরপরই র্যাবের একটি দল নয়াপল্টন মসজিদ ও জোনাকি সিনেমা হলের দিকে টহল দেয়। মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক ককটেল ছুড়েই দ্রুত পালিয়ে যায়। ককটেল বিস্ফোরণের সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সাবেক ছাত্র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল চলছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি বানচাল করতে সরকার নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির মহিলা এমপি রেহানা আখতার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শাম্মী আখতার ও রাশেদা বেগম হীরা দুপুর ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসে। পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যেই তারা স্লোগান দেন ‘এক দেশে দুই আইন, মানি না মানি না।’ বেলা সোয়া এগারোটার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে রাহুল তালুকদার ও সালমান সাদ নামে দুই শিক্ষানবিশ ফটোগ্রাফারকে আটক করে পুলিশ। নয়াপল্টনে ক্যামেরা নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় তাদের চ্যালেঞ্জ করে পুলিশ। পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পল্টন থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা জানান, তারা পাঠশালা নামের একটি ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। দুপুর তিনটার দিকে পল্টন থানার সামনে কয়েকটি পটকার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বিকেল চারটার দিকে বিএনপির কার্যালয়ের উল্টো দিকের ভাসানী স্মৃতি পরিষদ ভবনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে বেলা ১১টার কিছু পরে বাসাবো উত্তরপাড়ায় একটি মিছিল বের হয়। সেখানে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। বিকেল থেকে রাত যায়। সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর মুগদা সবুজবাগে ছাত্রদলের একটি মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে স্থানীয় ছাত্রদল মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। ৬-৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। হরতালের সমর্থনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা বিএনপি গতকাল সকালে জাফরাবাদ-শংকর এলাকায় মিছিল বের করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির আহবায়ক সাবেক কমিশনার আতিকুল ইসলাম মতিন, ওসমান গনি শাহজাহান, নাসির আহমেদ, শাহাব উদ্দিন মুন্না প্রমুখ। রাজশাহী অফিস জানায়, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাজশাহীতে বিএনপির হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। সোমবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রা.বি) সংলগ্ন বিনোদপুরে গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ, ওষুধ বহনকারী পিকআপে আগুন, ১০/১২টি ককটেল বিস্ফোরণ, মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও শিরোইল রবের মোড়ে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল-আমিনের বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ; মঙ্গলবার ভোরে মেডিক্যাল বন্ধগেট এলাকায় ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং সিটি বাইপাস সড়কের বহরমপুর মোড়ের রেললাইনের উপর টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হরতাল সমর্থকদের উল্লেখিত নাশকতার খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পদক্ষেপ নেয়ায় কেউ হতাহত হয়নি। এদিকে সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির সম্পাদক শফিকুল হক মিলন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নেতৃত্বে বিএনপি হরতালের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। অন্যদিকে দুপুর ১২টায় মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে ১৪ দল হরতাল বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করেছে। গত রবিবার গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে জারিকৃত অনির্দিষ্টকালের ১৪৪ ধারা গতকাল মঙ্গলবারও বহাল ছিল। বরিশাল অফিস জানায়, বিএনপি’র ডাকা হরতালে নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। জামায়াতের ডাকা হরতালের মত জনজীবনে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি বিএনপির হরতালে। ভোর রাতে নগরীর কাশিপুর চৌমাথা এলাকায় সড়কে অগ্নিসংযোগ ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে অবরোধ করে পিকেটাররা। সকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকায় মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আফরোজা খানম নাসরিনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করে। এসময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হলে পিকেটাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বাবুগঞ্জে পিকেটিংকালে ছাত্রদল ও আওয়ামী লীগের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সেখানে ৬টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। আহত হয় ৫ জন। খুলনা অফিস জানায়, সকালে নগরীর শেরে বাংলা রোডে পিকেটাররা ৩টি ইজিবাইক ভাংচুর করে। মৌলভীপাড়া মোড়ে এবং বার্মাশীল রোডে পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। হরতালের সমর্থনে নগরীর ডালমিল মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা শাখা এবং বার্মাশীল রোডে নগর শাখা মিছিল বের করে। সকালে যুবলীগ নগরীর ময়লাপোতা মোড় এলাকায় হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। হরতাল চলাকালে নগরীতে হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারী কোন যানবাহন চলাচল করেনি। টার্মিনাল ঘাট থেকে লঞ্চ এবং ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি। ব্যাংক বীমায় লেনদেন এবং অফিস-আদালতে উপস্থিতি ছিল কম। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় ও দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ায় জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ এ সময় গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুরে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হরতাল সমর্থকরা মিছিল বের করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। শুরু হয় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ এ সময় জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এদিকে, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ায় জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও আ’লীগ অফিস ভাংচুরের চেষ্টাকালে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা পরিষদে আজ দুপুরে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন আহত হয়েছে। কলারোয়া থানার ওসি জানান, আহতদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরে সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিএনপি একটি মিছিল বের করে। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আসার পর তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সাতক্ষীরা পৌর এলাকা, আশাশুনি, দেবহাটা, কলারোয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অনির্দিষ্টকালের ১৪৪ ধারা বলবত্ আছে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জামায়াত- শিবিরের টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল চলাকালে রবিবার সকালে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির কর্মী ও সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিতে আহত দর্জি শ্রমিক সেলিম শেখ (১৬) নামের আরও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সেলিম বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের বানদীঘি হাপুনিয়াপাড়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার ভোর অনুমান সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে রবিবারের সহিংস ঘটনায় বগুড়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ জনে। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবির সংঘর্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে গুলিবিদ্ধ দুলাল (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান দুলাল। এ নিয়ে ওইদিনের সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় বিএনপির ডাকা হরতালের সমর্থনে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় বিএনপির পিকেটাররা শহরের বারহাট্টা রোডে একটি যাত্রীবাহী অটোটেম্পোতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে টেম্পোটি পুড়ে যায় এবং দুই যাত্রীর শরীর আগুনে ঝলসে যায়। তারা মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়। তবে নেত্রকোনায় বিএনপির হরতাল হয়নি। যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দূরপাল্লার বাস চলেনি। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির ডাকা হরতালে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও একই কারণে জেলা সদরের সাথে সকল রোডের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের উল্লাপাড়ার ২ কি.মি. এলাকা এবং সিরাজগঞ্জ শহরে প্রবেশের সিরাজগঞ্জ-মুলিবাড়ি সড়কের বাঐতারা, রায়গঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বহুলী, নলকা সড়কের চণ্ডিদাসগাতি ও শিয়ালকোল, কড্ডা সড়কের বনবাড়িয়া থেকে সদানন্দপুর, কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কগুলোতে রাস্তায় কাঠের গুঁড়ি ফেলে এবং রাস্তার পাশের গাছ কেটে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ অবস্থার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয় বিএনপির হরতাল। যে কারণে এ সকল মহাসড়কে এখনও পূর্বের অবস্থা বিরাজ করছে। লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরের নয়ারহাট বাজার এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংর্ঘষ হয়। হরতালের সমর্থনে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়ারহাট বাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। উভয় দলের মিছিল নয়ারহাট বাজারে মুখোমুখি হলে সংর্ঘষের সূত্রপাত ঘটে। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হরতাল চলাকালীন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের বেড়ি বাজারে যুবদল ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় লামচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি টিপু সুলতানসহ যুবদলের ৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে যুবদল নেতা টিপু সুলতানকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাবনা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির ডাকা মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ, ইট ফেলে অবরোধ করে রাখে হরতাল সমর্থকরা। এতে বন্ধ থাকে ওই রুটে সকল প্রকার যান চলাচল। এছাড়া পৌর শহরের মাসুম বাজার, মহিষের ডিপো, আতাইকুলা সড়ক, বাইপাস চেতনের মোড়, টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুলের সামনে, আরিফপুর-হাজিরহাট সড়ক, গাছপাড়া, লাইবেরি বাজার এলাকায় ভোর থেকেই গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে পাবনা জেলা বিএনপি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও রাজারহাট সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় রাজারহাট প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়, বিএনপির অফিস ও ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল হামলার ঘটনায় উপজেলা জুড়ে উত্তেজনা ও থমেথমে অবস্থা বিরাজ করায় বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি সাদেকুল হক। ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে বিএনপির ডাকা হরতালে সকালে বিশ্বরোড ব্রাক মোড় ও শহরের কালিবাড়ি সড়কে একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বরিশাল থেকে ঝালকাঠি আসার পথে কালিজিরা ব্রীজ পার হলে সকাল ১০টায় একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। হরতালের পক্ষে বিএনপির পিকেটারদের মাঠে দেখা না গেলেও সকাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগ দুপুর পর্যন্ত মাঠে তত্পর ছিল। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হরতাল চলাকালে শহরের রাজবাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার, ডিজিটাল বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে হরতাল বিরোধী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হামলায় বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরে একটি হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলটি জেলা বিএনপি অফিস অতিক্রমকালে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ওই মিছিলকারীরা বিএনপি অফিসে হামলা চালায়। গাজীপুর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির হরতালের সমর্থনে পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা সড়কে জেলা মহিলা দল পিকেটিং করলে পুলিশ তাদেকে বাধা দেয়। এসময় পিকেটাররা ঐ সড়কে চলাচলকারী রিক্সা ভাঙচুর চালাতে শুরু করলে র্যাব ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে। এতে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা জেসমিন জাফরসহ ৮ জন আহত হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে দিনব্যাপী ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হলেও প্রথম প্রহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলি করে। এর আগে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয় জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন। এছাড়া শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে টায়ারে অগ্নিসংযোগ, বিচ্ছিন্ন পিকেটিং করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুরে যুবদলের হরতাল সমর্থনে একটি মিছিলে হামলা দেয় যুবলীগের লোকজন। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, হরতালে বান্দরবানে পুলিশি বাধায় মিছিল করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদিকে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের পুলপাড়া এলাকায় বেইলি ব্রিজের প্যাটাতন উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবারও বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের দস্তিদারহাটসহ কয়েকটি স্থানে রাস্তায় গাছের টুকরো এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রধান সড়ক জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অবরোধ করে রাখায় ষষ্ঠ দিনের মত বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-কক্সবাজার এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ছয়দিন বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বান্দরবানের লক্ষাধিক মানুষসহ বেড়াতে আসা পর্যটকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে বান্দরবান জেলা সদরসহ রুমা, থানছি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায়। ভোলা উত্তর প্রতিনিধি জানান, কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালকে সফল করতে সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ১০ জন আহত হয়েছে এবং পুলিশ নাশকতা এড়াতে ৩ জনকে আটক করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপি’র ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। সকালে হরতালের সমর্থনে জেলা বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিল করে। পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক পিকেটিং এর কারণে শহরের অভ্যন্তরে কোন যানবাহন চলাচল করেনি। দূরপাল্লার কোন যানবাহন ছেড়ে যায়নি। স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, বীমা সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, অটোটেম্পু ও রিক্সা ভাংচুরসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। পুলিশ জানায়, হরতাল চলাকালে ৮ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদিকে জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম আজাদ জানান, যুবদলের জেলা কমিটির নেতা হেলাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, রাজিব আহম্মেদ, মনির উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে হরতাল সমর্থনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটাররা কমপক্ষে ৮/১০টি টেম্পু ও অটোরিক্সা ভাংচুর করেছে। খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, জেলার সকল উপজেলায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে। কোথাও কোন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সকল ধরনের স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। যশোর অফিস জানায়, যশোরে বিএনপির ডাকা হরতাল কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই হরতালকারীরা শহর, এমনকি গ্রামগঞ্জে সক্রিয় ছিল। কড়া পিকেটিং করার পাশাপাশি তারা আগুন জ্বালিয়ে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের বিশ্বনাথে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল অটোরিক্সা ভাংচুরের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। সকাল ১১টায় উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের আতাপুর এলাকায় পিকেটাররা একটি অটোরিক্সা ভাংচুর করে। দুমকী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, বিএনপির ডাকা হরতালের সমর্থনে দুমকীতে বিএনপি আয়োজিত মিছিল সকালে বের করে নসীব সিনেমা হলের সামনে আসলে পুলিশ ধাওয়া করলে নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। তাছাড়া হরতাল চলাকালীন দোকানপাট বন্ধ ছিল। বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল মিছিল-পিকেটিং-ভাংচুরের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। সকালে পিকেটাররা কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এ সময় বড়াইগ্রাম ডিগ্রি কলেজ ও একটি ক্লিনিকে ভাংচুর করে তারা। সরকারি দফতর, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। কালকিনি (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল মঙ্গরবার বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি কালকিনি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের পক্ষে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাথুরিয়ারপার ও ডাসার থানার ভুরঘাটা-শশিকর ফিডার সড়কে রাস্তার উপরে টায়ার জ্বালিয়ে হরতাল পালন করা হয়। রামগতি সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় আহত তিন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীকে হাসপাতালে নেয়ার পথে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির কর্মীরা এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। বিএনপির ডাকা গতকালের (মঙ্গলবার) হরতালের সমর্থনে স্থানীয় বিএনপি মিছিল করার সময় ওই সংঘর্ষ বাধে। বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার বোরহানউদ্দিনে মঙ্গলবার হরতাল চলাকালে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৭ পুলিশসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপির কমপক্ষে ৭০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, সারাদেশে গণহত্যার প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। পিকেটিং-এর সময় কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। রূপগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, বিএনপির ডাকা হরতাল সফল করতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল গতকাল মঙ্গলবার থানা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েমের নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আধুরিয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা একটি মালবাহী ট্রাক ও দুইটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ভাংচুর করে। পরে তারা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিরোধী দলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আদমদীঘিতে পালিত হয়েছে। এদিকে ট্রেনে নাশকতা এড়াতে আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশানে বিজিবি মোতায়েন ছিল। প্রতিবাদ সভার পর রাজপথ ছেড়ে দেয়ায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন, নির্য়াতন-নিপীড়ন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে বিএনপির মঙ্গলবার ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের বিভিন্ন সড়কে বিএনপি খণ্ডখণ্ড মিছিল বের করে। কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, কলারোয়ায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের বোমা হামলায় শুকুর আলী (৫৬) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীর মত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শুকুর আলী উপজেলার হাটুনিয়া গ্রামের গহর আলীর ছেলে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, শুকুর আলী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নিয়ে তিনি কথা বলছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে তার অফিস সংলগ্ন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস মনোয়ারা ফারুকের কক্ষে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা অফিসের পিছন থেকে ১টি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। তাদের নিক্ষিপ্ত বোমার মধ্যে একটি বোমা বিকট শব্দে কিস্ফোরিত হলে আহত হয় ৫ জন আওয়ামী লীগ কর্মী ও সমর্থক। বোমার আঘাতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষ ধংসস্তূপে পরিণত হয়। উড়ে যায় কক্ষের দরজা জানালা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় যশোর সদর হাসপাতালে শুকুর আলীর মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে কসমস কম্পিউটার সেন্টারে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আগুন লাগিয়ে দেয়ার ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ নয়জন নেতাকর্মীর মধ্যে এ পর্যন্ত মৃত্যু হলো দুজনের। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর মারা গেলেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শহীদ সিদ্দিকী (২৫)। তিনি শহরের কলেজপাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। এছাড়া আগুন লাগানোর সময়ই পুড়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী সুমন সাহা (২৭)। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শওকত হোসেন ইমরান জামায়াতের সমর্থক মনে করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে জানা যায়। এছাড়া খুলনার কয়রা, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, মঠবাড়িয়া, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ), পরশুরাম (ফেনী), গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), নন্দীগ্রাম (বগুড়া), কালীগঞ্জ (গাজীপুর) কাঠালিয়া (ঝালকাঠি), ঘাটাইল (টাঙ্গাইল), দাউদকান্দি (কুমিল্লা), কলারোয়া (সাতক্ষীরা), পীরগাছা (রংপুর), রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম), মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ), টেকনাফ (কক্সবাজার), বরগুনা (দক্ষিণ), বেতাগী (বরগুনা), কোম্পানীগঞ্জসহ (নোয়াখালী) বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বেশিরভাগ এলাকাতেই পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।