এসব মৃত্যুর সান্ত্বনা নেই স্বজনদের

প্রাইভেট পড়ে ফেরা হলো না সিরাজগঞ্জের মুক্তারের

প্রাইভেট পড়ে আর বাড়ী ফেরা হলো না সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন’স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মুক্তার হোসেন খানের (১৯)। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, চন্ডিদাসগাঁতী আইডিয়াল কলেজে সে প্রতিদিন ভোরে গিয়ে প্রাইভেট পড়তো। রবিবার সকালে মায়ের বেড়ে দেয়া পান্তাভাত খেয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু জীবিত ফেরা হলো না। বাড়ি ফিরলো লাশ হয়ে। রাজাখার চরের আলমগীর খানের ছেলে মুক্তার কোনো দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। সেদিন কলেজে গিয়ে কিছূক্ষন প্রাইভেট পড়ে বাড়ী ফিরতেই জামায়াত শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের বলি হয় সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন সকাল থেকেই কামারখন্দ-রায়গঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে চন্ডিদাসগাঁতী বাজারে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে শত শত শিশু কিশোরদের জড়ো করা হয়। সাড়ে ১১ টার দিকে সদর উপজেলার চন্ডিদাসগাঁতী এলাকায় পুলিশ ও র্যাব জামায়াত কর্মীদের সাথে তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পর্যায় গুলি চালায় পুলিশ। মুক্তার ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে ছিটকে পড়ে। তাকে শহরের মেডিনোভা হাসপাতালে আনা হলে কর্তবরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। মুক্তার সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বর্ষের ছাত্র। তারা ২ ভাই ১ বোন। বাবা নিউ মাকের্েট ছোট পুঁজির দোকানদার। ৩ ছেলের লেখাপড়া খরচ জোগাতে সংসারের অভাব অনটন লেগেই থাকে। ভেবেছিলেন ছেলেকে মানুষ করতে পারলে অভাব দূর হবে। কিন্তু সেই আশা শেষ। তার মা আমিনা খাতুন বলেন, প্রাইভেট পড়ে বাড়ী ফেরার সময় পুলিশের গুলিতে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার আল্লাহ’র উপর ছেড়ে দিয়েছি। তার বাবা নুরুন্নবী খান বলেন, যেভাবে তার মৃত্যু লেখা ছিল সেভাবেই সে চলে গেছে। তবুও এই দেশ যেন শান্তিতে থাকে। হানাহানির রাজনীতির কবলে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।