এসব মৃত্যুর সান্ত্বনা নেই স্বজনদের

শিবিরকর্মীদের কুড়ালের এক কোপেই স্বপ্নভঙ্গ নাটোরের খায়রুলের

‘আমার বাবা বৃহ-স্পতিবার নামাজ পড়ে বাড়ি এসে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। এরই মধ্যে বাড়ির চারিদিকে আগুন দিয়ে আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে জামায়াত শিবিরের লোকেরা। আমি আমার চাচার সাথে দৌঁড়ে মাঠের মধ্যে পালাই। একটু পরে ফিরে দেখি বাড়ির সামনে বাবার রক্তমাখা লাশ। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের ফঁসি চাই।’ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান গ্রামের যুবলীগ নেতা খায়রুল ইসলামের কিশোর পুত্র জুবাইর হোসেন লিখন (১৩)। তার ছোট বোন খাদিজাতুল কোবরা (৯) জানায়, বাড়িতে হামলার সময় সে দৌঁড়ে তার স্কুলের এক ম্যাডামের বাসায় পালিয়েছিল। ম্যাডাম বলছিলেন, ‘ভয় নেই তোমার মা-বাবাও আমাদের এখানে আসবেন। কিন্তু একটু পরেই বাড়ি ফিরে অনেক মানুষের ভিড়ের মধ্যে বাবার লাশ দেখতে পাই।’ ছোট্ট খাদিজাতুলও তার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানায়। নিহতের বড় ভাই আবু তারেক জানান, সেদিন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত শিবির মিছিল বের করে বাড়িতে আগুন দিলে আমরা সবাই দৌঁড়ে পালালেও খায়রুল পালাতে পারেনি। বাড়ির সামনেই চাইনিজ কুড়ালের এক কোপে তাকে হত্যা করে তারা। মেধাবী দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যই সমপ্রতি রাজশাহীর একটি গ্যাস ফিল্ডে প্রহরীর চাকুরি নিয়েছিলেন খায়রুল। কিন্তু ছেলে মেয়ে দুটি’র সামনে এখন শুধুই অন্ধকার।’