টানা হরতালে আশুগঞ্জ বন্দরে ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:২১
সারাদেশে টানা ৩ দিনের হরতালের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য। আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বৃহত্ ধান চালের মোকাম আশুগঞ্জে বেচাকেনায় নেমে এসেছে ধস। চাতালকলগুলোতে উত্পাদিত চালও বিক্রি করতে না পেরে নতুন করে ধান কিনছে না চাতাল মালিকরা। সার লোড করে অর্ধ শতাধীক ট্রাক বন্দরে আটকা পড়ে থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বৃহত্ ধান চালের মোকাম আশুগঞ্জ। বৃহত্তর সিলেট, নেত্রোকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকরার হাজার হাজার মণ ধান বিক্রি করতে নিয়ে আসে আশুগঞ্জে। এখানে প্রতিদিন ৫০/৬০ হাজার মন ধান বিক্রি হয়ে থাকে। জেলার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলায় রয়েছে অর্ধ সহস্রাধীক চাতালকল। মোকামের এসব ধান চাতাল মালিকরা কিনে তা থেকে উত্পাদিত চাল চট্রগ্রাম ও সিলেট জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। গত রোববার থেকে টানা ৩ দিনের হরতালের কারণে আগের উত্পাদিত প্রায় এক লাখ টন চাল বিক্রি করতে পারেনি। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এদিকে আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে ৭ জেলার ডিলারগন ইউরিয়া সার উত্তোলর করে থাকেন। প্রতিদিন কারখানা থেকে ১৫/১৬শ’ টন সার উত্তোলন করে সড়ক ও নৌপথে নেত্রোকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা,চাদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্ত গত রবিবার থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত হরতালের কারণে এসব জেলায় সার পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। এতে করে ডিলারদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। শহর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন ইপটি জানান ৩ দিনের হরতালে আশুগঞ্জের সকল ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ধান চাল ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গাড়ী পুড়িয়ে দেয়ার আশংকায় ব্যবসায়ীরা ভয়ে ধান চাল পরিবহন করতে সাহস পাচ্ছে না। এতে করে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন এবং ব্যবসায়ীমহলে আতংক বিরাজ করছে।