নান্দাইলের ইটভাটা থেকে শিকলে বাঁধা শ্রমিক উদ্ধার
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:২৪
নান্দাইল(ময়মনসিংহ)সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের এক ইটভাটা থেকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় সাইফুল ইসলাম (২৮) নামে এক শ্রমিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নূরুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান অভিযান চালিয়ে ওই শ্রমিককে ভাই ভাই নামে একটি ইটভাটা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সাইফুল ইসলামকে ইটভাটার মালিক মোসলেমউদ্দিন ও মতিউজ্জামান বিগত চারদিন ধরে শিকলে বেেঁধ রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শ্রমিকের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন বৌলাই গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হাসেম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিক সাইফুল ইসলামকে উদ্ধারের সময় ভাই ভাই ইটভাটার দুই মালিকের একজন মতিউজ্জামানকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। পরে ইটভাটা মালিকের পক্ষে শতাধিক লোক থানা ঘেরাও করলে পুলিশ চাপের মুখে অভিযুক্ত মতিউজ্জামানকে ছেড়ে দেয়। উদ্ধার হওয়া সাইফুল ইসলাম নান্দাইল মডেল থানায় বসে ইত্তেফাককে জানান, উপজেলার সিংদই গ্রামের ভাই ভাই ইটভাটায় মজিদ, হাজু, হুমায়ুন, সবুজ, তৌহিদসহ ১৬ জন শ্রমিক দু’বছর ধরে কাজ করে আসছিল। তাকে ৪দিন ধরে ভাই ভাই ইটভাটার মালিক শিকলে বেেঁধ আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন চালায়।
শ্রমিক সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, আমাকে তারা মারধরের পাশাপাশি খাবার দিতো না। বলতো টাকা ফেরত না দিলে লাকড়ির মতো ইটভাটার আগুনে জ্বীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলব। আমাদের দলের সর্দার ছিলো মহরম আলী ও সাইদুল ইসলাম। তারা ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে শ্রমের জন্য আগাম দাদন নিয়েছে কি না আমার জানা নেই। ভাইভাই ইটভাটার দুই মালিকের একজন মোসলেমউদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, গত বছর ১৬ জন শ্রমিকের একটি দল আগাম ৫ লাখ টাকা নেয় আমাদের কাছ থেকে। এবছর যথারীতি তারা কাজে এলেও ৫/৬দিন আগে হঠাত্ করে উধাও হয়ে যায়। পরে ওই দলের সদস্য সাইফুল ইসলামকে আটকে রাখা হয়। তিনি নির্যাতনের অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ শিকলে বাঁধা অবস্থায় ইটভাটা থেকে ওই শ্রমিককে উদ্ধার করে। শ্রমিকদের সাথে টাকা লেনদেনের বিষয়টি পুলিশের জানার কথা নয়। তিনি ইটভাটার মালিককে ছেড়ে দেয়ার প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশ ইটভাটার মালিককে আটক করেনি।