জাতীয় স্বার্থকে আগে রাখবে বিসিবি
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৮
এবার তাহলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলা হচ্ছেই না সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। অন্তত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তেমনই জানালো। গতকাল বিসিবির এডহক কমিটির বৈঠকের পর বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, দেশের ক্রিকেটের আগে কোনো কিছুকেই জায়গা দেয়া হবে না। যেহেতু আইপিএল ও বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর একই সময় পড়ে গেছে; তাই এই দু’জনের পুরো আইপিএল খেলার অনুমতি পাওয়ার প্রশ্ন আসে না। তবে সফরের আগে-পরের উইন্ডোতে সাকিব-তামিমকে তাদের আবেদন পেলে অনুমতি দিলেও দিতে পারে বোর্ড।
গতকালের সভায় সাকিব-তামিমের এই আইপিএল প্রসঙ্গ ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হলো। এর মধ্যে আছে নাদির শাহ প্রসঙ্গ, ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, প্রিমিয়ার লিগ পেছানো, জাতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর মতো ব্যাপার। একদিকে সাকিব-তামিম যখন আইপিএল খেলা থেকে প্রায় বঞ্চিত হচ্ছেন; তখন সব জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য একটা সুখবরও দিয়েছে বোর্ড। বাড়ছে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্ট, বাংলাদেশ গেমস ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলার জন্য ঢাকা মহানগরী প্রিমিয়ার লিগ পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও মোটামুটি একমত হয়েছে বোর্ড।
সব আলোচনার শীর্ষে রইল সাকিব-তামিমের আইপিএল খেলা। এমনিতেই বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরে ইনজুরিতে থাকা দেশের সেরা ক্রিকেটার ও বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইনজুরির জন্য মাঝে সিরিজ মিস করেছেন তামিমও। এ অবস্থায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সিরিজটায় আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বোর্ড।
আইপিএল শুরুর ক’দিন পরই শুরু হবে বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর। ফলে এখনই সাকিব-তামিম কাউকেই অনাপত্তিপত্র দেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বোর্ড। সভাপতি বলছিলেন, ‘আগে জাতীয় দলের স্বার্থ মাথায় রাখতে হবে, তারপর অন্যকিছু। জাতীয় দলের যেহেতু ওই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর আছে, তাই তাদেরকে পুরোপুরি ছাড়া সম্ভব না। হ্যাঁ, আগে-পরের উইন্ডোতে ওরা খেলার জন্য অনুমতি চাইলে তখন ভাবা যেতে পারে।’
কালকের সভায় সাকিব-তামিম ছাড়া জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল ম্যাচ ফি বাড়ানো। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফি অনেকটাই বাড়ানো হলো। এখন থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩৫ হাজার টাকার বদলে ৬০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন। এ ছাড়া ওয়ানডেতে ৬০ হাজার টাকার বদলে ১ লাখ টাকা এবং টেস্টে ১ লাখ টাকার বদলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন। তবে টেস্ট ম্যাচ পঞ্চমদিনের লাঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছালে ম্যাচ ফি ২ লাখ টাকা করে হয়ে যাবে।
জাতীয় দলের এ দুটো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছাড়া আলোচনার বড় ব্যাপার ছিল ঢাকা মহানগর প্রিমিয়ার লিগ। সূচি অনুযায়ী এপ্রিলের আগেই প্রিমিয়ার লিগ শুরুর কথা থাকলেও মে মাসের আগে সেটা হচ্ছে না বলেই ধারণা দিলেন বোর্ড সভাপতি। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরেই যাবে জিম্বাবুয়ে সফরে। এরপর বাংলাদেশ গেমসে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত থাকবেন ক্রিকেটাররা। একই সময়ে আবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা আছে।
এর ফলে হাতে যে অল্প সংখ্যাক ক্রিকেটার থাকবে, তাদের একটা তালিকা করবে বোর্ড। এই তালিকা দলগুলোকে দিয়ে জানতে চাওয়া হবে; এ অবস্থায় তারা লিগ খেলতে রাজি কি না। এরই মধ্যে দলগুলো লিগ পেছানোর দাবি করায় এই খেলোয়াড় স্বল্পতার মধ্যে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না সভাপতিও। ফলে মে মাসের আগে লিগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
এ ছাড়া আলোচনায় ছিল ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এপ্রিলের ৬ তারিখ এই বিশ্বকাপের ‘ইভেন্ট’ উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া কক্সবাজারে ভেন্যুর কাজসম্পন্ন করে বিশ্বকাপের মেয়েদের টুর্নামেন্ট সেখানে আয়োজনের ব্যাপারেও আশাবাদী বোর্ড।